
Written by
Published at
November 29, 2025
গর্ভে শিশুর ভ্রূণ বড় হতে হতে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ শিশুতে রূপ নেয়।এই ভ্রূণের শারীরিক বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান।এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ কেন দরকার?
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন:
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন এ খাবো?
গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে হলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা সবচেয়ে ভালো।
কারণ, ভিটামিন এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি হলেও, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ (বিশেষত রেটিনল আকারে) ক্ষতিকারক হতে পারে এবং জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নিরাপদ থাকার জন্য, অনুগ্রহ করে আপনার গাইনোকোলজিস্ট বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলুন।
ভিটামিন এ এর অভাব হলে আপনার শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া ভ্রূণের বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে গর্ভের শিশুর নানান স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—
গর্ভবতী নারীদের ভিটামিন এ এর অভাব হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা দেয়—
আপনার যদি এমন কোনো লক্ষণ দেখা দেয় অথবা কোনো কারণে শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন।
ভিটামিন এ বেশি খেয়ে ফেললে কী হবে?
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ (বিশেষ করে রেটিনল বা প্রফর্মড ভিটামিন এ) গ্রহণ করাটা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার)।
এর প্রধান বিপদ হলো:
শিশুর জন্মগত ত্রুটি (Birth Defects): অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণের ফলে গর্ভের শিশুর চোখ, মাথার খুলি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির বিকাশে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এটি এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
লিভারের সমস্যা: মায়ের লিভারে অতিরিক্ত ভিটামিন এ জমা হয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সাধারণত, গাজর, মিষ্টি আলু বা শাক-সবজি থেকে পাওয়া বিটা-ক্যারোটিন (যা শরীর ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে) অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয় না। ঝুঁকি মূলত আসে প্রাণীজ উৎস (যেমন - কলিজা) বা ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট থেকে যখন দৈনিক অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণ করা হয়।
যদি আপনি মনে করেন যে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ খেয়ে ফেলেছেন:
অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।এটি একটি জরুরি অবস্থা।ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ডাক্তারকে আপনি কতটুকু এবং কী ধরনের ভিটামিন এ গ্রহণ করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানান।
গর্ভাবস্থার জন্য উপযোগী ভিটামিন এ এর কিছু ভালো উৎস হলো—
কলিজা ও মাছের তেল ভিটামিন এ এর খুবই ভালো উৎস।কিন্তু এগুলোতে অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে, যা সাধারণ অবস্থায় খাওয়া গেলেও গর্ভাবস্থায় শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।