🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ

গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ

Written by

Published at

November 29, 2025

গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ

 

গর্ভে শিশুর ভ্রূণ বড় হতে হতে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ শিশুতে রূপ নেয়।এই ভ্রূণের শারীরিক বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান।এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:


গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ কেন দরকার?

 

  • শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে: ভিটামিন এ ভ্রূণের কোষ বিভাজন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলির সঠিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।এটি চোখ, ত্বক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এবং কিডনির বিকাশে সাহায্য করে।
  • দৃষ্টিশক্তির জন্য: শিশুর স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির বিকাশে ভিটামিন এ প্রয়োজন।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এটি মা ও শিশু উভয়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়াতে সাহায্য করে।
  • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ: ভিটামিন এ শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে।

 

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন:

 

  • গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ-এর অভাব যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করাও ক্ষতিকারক হতে পারে, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে (প্রথম ত্রৈমাসিকে)।
  • তাই, গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত এবং শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দেশিত পরিপূরক (Supplement) গ্রহণ করা উচিত।

 

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন এ খাবো?


গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে হলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা সবচেয়ে ভালো।

 

কারণ, ভিটামিন এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি হলেও, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ (বিশেষত রেটিনল আকারে) ক্ষতিকারক হতে পারে এবং জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

  • সাধারণত,গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ পাওয়া যায়।
  • চিকিৎসক আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে সঠিক ডোজ এবং সাপ্লিমেন্ট (যদি প্রয়োজন হয়) নির্ধারণ করবেন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ-মাত্রার ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট (যেমন রেটিনল বা রেটিনাইল এস্টার) গ্রহণ করা উচিত নয়।
  • নিরাপদ থাকার জন্য, অনুগ্রহ করে আপনার গাইনোকোলজিস্ট বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলুন।

     

  • ভিটামিন এ এর অভাব হলে কী হবে?

     

ভিটামিন এ এর অভাব হলে আপনার শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া ভ্রূণের বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে গর্ভের শিশুর নানান স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—

 

  • দৃষ্টিশক্তির সঠিক বিকাশের অভাব
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা
  • ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্রের দুর্বলতা
  • ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কম হওয়া

 

গর্ভবতী নারীদের ভিটামিন এ এর অভাব হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা দেয়—

 

  • শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • কম আলোতে ও রাতে চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া, এমনকি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়া
  • ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা। যেমন: নিউমোনিয়া
  • রক্তশূন্যতা

 

আপনার যদি এমন কোনো লক্ষণ দেখা দেয় অথবা কোনো কারণে শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন।


ভিটামিন এ বেশি খেয়ে ফেললে কী হবে?


গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ (বিশেষ করে রেটিনল বা প্রফর্মড ভিটামিন এ) গ্রহণ করাটা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার)।


এর প্রধান বিপদ হলো:

 

  • শিশুর জন্মগত ত্রুটি (Birth Defects): অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণের ফলে গর্ভের শিশুর চোখ, মাথার খুলি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির বিকাশে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এটি এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

     

  • লিভারের সমস্যা: মায়ের লিভারে অতিরিক্ত ভিটামিন এ জমা হয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

     

  • অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ: ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি এবং বিষণ্ণতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

 

সাধারণত, গাজর, মিষ্টি আলু বা শাক-সবজি থেকে পাওয়া বিটা-ক্যারোটিন (যা শরীর ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে) অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয় না। ঝুঁকি মূলত আসে প্রাণীজ উৎস (যেমন - কলিজা) বা ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট থেকে যখন দৈনিক অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণ করা হয়।


যদি আপনি মনে করেন যে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ খেয়ে ফেলেছেন:

 

অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।এটি একটি জরুরি অবস্থা।ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ডাক্তারকে আপনি কতটুকু এবং কী ধরনের ভিটামিন এ গ্রহণ করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানান।

 

কোন কোন খাবারে ভিটামিন এ থাকে?

গর্ভাবস্থার জন্য উপযোগী ভিটামিন এ এর কিছু ভালো উৎস হলো—

  • দুধ ও দুধের তৈরি খাবার।যেমন: দই ও পনির
  • লাল, হলুদ ও সবুজ শাকসবজি।যেমন: গাজর, মিষ্টিকুমড়া,মিষ্টি আলু,লাল শাক,কচু শাক ও পালং শাক
  • রঙিন ফলমূল। যেমন: আম,পাকাপেঁপে,তাল,ডেউয়া ও বাঙ্গি
  • ডিম
  • তৈলাক্ত মাছ

 

কলিজা ও মাছের তেল ভিটামিন এ এর খুবই ভালো উৎস।কিন্তু এগুলোতে অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে, যা সাধারণ অবস্থায় খাওয়া গেলেও গর্ভাবস্থায় শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login