🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব

গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব

Written by

Published at

November 29, 2025

গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব

 

গর্ভাবস্থায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি সাদা স্রাব হওয়া স্বাভাবিক।এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাদা স্রাব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব (যাকে লিউকোরিয়াও বলা হয়) হওয়া খুব স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হরমোনের পরিবর্তন এবং যোনিপথকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য এমনটা হয়ে থাকে।এই স্বাভাবিক স্রাব সাধারণত পাতলা, পরিষ্কার বা দুধের মতো সাদা এবং গন্ধহীন হয়।তবে,কিছু ধরনের সাদা স্রাব স্বাস্থ্যঝুঁকি বা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।একেক জনের ক্ষেত্রে একেক পরিমাণে স্রাব যেতে পারে। আবার একই ব্যক্তির মাসের একেক সময়ে একেক পরিমাণ স্রাব যেতে পারে।সাধারণত মাসিকের ঠিক আগে স্রাব যাওয়া বেড়ে যায়। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও বেশ স্বাভাবিক। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সাদা স্রাব হতে পারে।

 

গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক সাদা স্রাব


স্বাভাবিক সাদা স্রাবের বৈশিষ্ট্য:


রং: সাধারণত স্বচ্ছ (clear) বা দুধের মতো সাদা (milky white) হয়।

  • ঘনত্ব: এটি সাধারণত পাতলা বা সামান্য ঘন (mucus-like) হতে পারে।গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এর পরিমাণ ও ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।
  • গন্ধ: এটি সাধারণত গন্ধহীন বা হালকা গন্ধযুক্ত হতে পারে।এতে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না।
  • পরিমাণ: গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং যোনি অঞ্চলে রক্ত ​​​​প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এর পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে।

     

এই স্রাব যোনি পরিষ্কার রাখতে এবং সংক্রমণকে জরায়ুতে পৌঁছাতে বাধা দিতে সাহায্য করে।

 

গর্ভাবস্থায় প্রায় সবারই সাদা স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়।এই বাড়তি সাদা স্রাব জীবাণুকে যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা থেকে জরায়ুতে উঠে আসতে বাধা দেয়।ফলে গর্ভের সন্তান ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সাদা স্রাবের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ সপ্তাহের দিকে স্রাব জেলির মতো আঠালো হতে পারে। এসময়ে স্রাবের রঙ হয় গোলাপী। এই স্রাবকে ডাক্তারি ভাষায় ‘শো’ বলা হয়।জরায়ুমুখে থাকা আঠালো পদার্থ বা মিউকাস যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে আসার ফলে এই ‘শো’ দেখা যায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে গর্ভবতী নারীর দেহ সন্তান প্রসবের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করছে। প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার ঠিক আগের কয়েকদিন অল্প অল্প করে এরকম ‘শো’ দেখা যেতে পারে।


গর্ভাবস্থায় যে ধরনের সাদা স্রাব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ


১. ইস্ট ইনফেকশন (Vaginal Thrush/Yeast Infection):

 

  • স্রাবের ধরন: ঘন, সাদা, দই বা কটেজ পনীরের মতো।
  • অন্যান্য লক্ষণ: যোনিপথের আশেপাশে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব এবং ব্যথা।
  • ঝুঁকি: যদিও এটি সাধারণত গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করে না, তবে এটি অস্বস্তিকর এবং চিকিৎসার প্রয়োজন।
     

২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস (Bacterial Vaginosis - BV):

 

  • স্রাবের ধরন: পাতলা, ধূসর-সাদা বা সবুজাভ স্রাব।
  • অন্যান্য লক্ষণ: তীব্র, দুর্গন্ধযুক্ত (প্রায়শই 'মাছের' মতো গন্ধ) স্রাব, যা সহবাসের পর আরও স্পষ্ট হয়। চুলকানি বা জ্বালাপোড়া নাও থাকতে পারে।
  • ঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় এটি চিকিত্সা না করা হলে এটি প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি (নির্ধারিত সময়ের আগে প্রসব) বা কম ওজনের শিশুর জন্ম-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

৩. ট্রাইকোমোনিয়াসিস (Trichomoniasis):

 

  • স্রাবের ধরন: সবুজাভ-হলুদ, ফেনাযুক্ত এবং প্রচুর পরিমাণে হতে পারে।
  • অন্যান্য লক্ষণ: তীব্র দুর্গন্ধ, যোনিপথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
  • ঝুঁকি: এটি একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI)। গর্ভাবস্থায় এটিও প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি বা কম ওজনের শিশুর জন্ম হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

৪. জরায়ুমুখের সংক্রমণ বা প্রদাহ (Cervicitis):

 

  • স্রাবের ধরন: অস্বাভাবিক, হলুদ বা ধূসর রঙের পুঁজের মতো স্রাব, সাথে দুর্গন্ধ থাকতে পারে।
  • অন্যান্য লক্ষণ: সহবাসের সময় ব্যথা বা রক্তপাত।

     

৫. রক্তের সাথে মিশ্রিত স্রাব:

 

  • বাদামী বা গোলাপি স্রাব: গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সামান্য বাদামী স্রাব ইমপ্লান্টেশন রক্তপাতের কারণে হতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে, তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে যদি তা বেশি পরিমাণে লাল রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা চাকার সাথে হয়।
  • হালকা রক্তযুক্ত স্রাব: যদি স্রাবে রক্তের ছোঁয়া বা হালকা গোলাপি ভাব থাকে, তাহলে তা জরায়ুমুখের সামান্য জ্বালা বা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। তবে, যে কোনো ধরনের রক্তপাতই অবিলম্বে ডাক্তারকে জানানো উচিত।
     

৬. অ্যামনিওটিক ফ্লুইড লিক (Amniotic Fluid Leak):

 

  • স্রাবের ধরন: যদি প্রচুর পরিমাণে পাতলা, পরিষ্কার, জলের মতো স্রাব হয়, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে (৩৭ সপ্তাহের আগে), তবে এটি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরের তরল) লিক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি একটি গুরুতর অবস্থা এবং অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

     

যদি গর্ভাবস্থায় আপনার সাদা স্রাবের রঙ, ঘনত্ব, গন্ধ, বা পরিমাণে হঠাৎ পরিবর্তন আসে, অথবা যদি আপনার চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হয়, তবে এটি অস্বাভাবিক স্রাবের লক্ষণ হতে পারে। 

 এই ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে অবশ্যই একজন ডাক্তার বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা মা ও সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।


গর্ভাবস্থায় ইনফেকশন

 

গর্ভাবস্থায় যোনিপথে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে অস্বাভাবিক ধরনের সাদা স্রাব হতে পারে। এটি অনেকের কাছে ‘ঈস্ট ইনফেকশন’ নামেও পরিচিত। এক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়—

 

  • অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা স্রাব যাওয়া। এই স্রাব দেখতে দই অথবা পনিরের মতো এবং চাকা চাকা হয়। তবে সাধারণত কোনো গন্ধ থাকে না
  • যোনিপথের আশেপাশে প্রচুর চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হওয়া
  • প্রস্রাব ও সহবাসের সময়ে ব্যথা কিংবা অস্বস্তি হওয়া

 

গর্ভাবস্থায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নিলে এটি সহজেই সেরে যায়। এক্ষেত্রে ডাক্তার মাসিকের রাস্তায় ঢোকানোর ঔষধ বা ক্রিম দিতে পারেন। সাধারণত চিকিৎসা শুরু করার ১–২ সপ্তাহের মধ্যেই এই ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন সেরে যায়।সব ধরনের অ্যান্টিফাঙ্গাল ঔষধ গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য নিরাপদ নয়। তাই নিজে নিজে ঔষধ কিনে চিকিৎসা শুরু করা যাবে না।


সহজ কিছু উপদেশ মেনে চলার মাধ্যমে ঘরোয়াভাবেই এই ধরনের ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়। যেমন—

 

  • সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরা
  • খুব টাইট বা আঁটসাঁট অন্তর্বাস ও পায়জামা না পরা
  • যৌনাঙ্গ শুকনো ও পরিষ্কার রাখা
  • যোনিপথে সুগন্ধি সাবানের ব্যবহার এড়িয়ে চলা

 

যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তার ভেতরের অংশ পরিষ্কার রাখার জন্য শরীরের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে বাইরে থেকে আলাদা কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। বরং সুগন্ধি সাবান কিংবা অন্য কিছু দিয়ে পরিষ্কার করতে গেলে হিতে বিপরীত হয়ে যোনিপথের ইনফেকশন হতে পারে।তাই সাধারণ সাবান-পানি দিয়ে শুধু মাসিকের রাস্তার বাইরের জায়গাটুকু পরিষ্কার করা যায়, ভেতরে কোনো কিছুই করা ঠিক নয়।


কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন ?


যদি সাদা স্রাবের নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি দেখা যায়, তবে তা কোনো সংক্রমণ বা সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত:

 

  • স্রাবের রং পরিবর্তন হয় (যেমন: সবুজ, হলুদ বা ধূসর)।
  • স্রাব অস্বাভাবিক ঘন এবং দই বা কুটির পনিরের মতো দলাদলা (clumpy) হয়।
  • এতে তীব্র বা বাজে গন্ধ (যেমন: মাছের মতো গন্ধ) থাকে।
  • যোনি বা এর আশেপাশে চুলকানি, জ্বালা বা ব্যথা হয়।
  • স্রাবের সাথে রক্তপাত হয় (হালকা বাদামী স্রাব উদ্বেগের কারণ নাও হতে পারে, কিন্তু লাল বা বেশি রক্তপাত হলে জরুরি)।

 

যেকোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজের থেকে চিকিৎসা না করে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা ধাত্রীর পরামর্শ নিন।

 

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login