🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা

গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা

Written by

Published at

November 29, 2025

গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা

 

গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা একটি খুব সাধারণ লক্ষণ,বিশেষ করে একদম শুরুর দিকে।এটি সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে,যখন শরীর স্তন্যপান করানোর জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে স্তনে ব্যথা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘটে। তবে, প্রোজেস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যথা থাকতে পারে।এই ব্যথা গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস পর্যন্ত বা প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। 


গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথার প্রধান কারণগুলি হল:


১. হরমোনের পরিবর্তন (Hormonal Changes): গর্ভাবস্থায় শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।এই হরমোনগুলো স্তনকে মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করে, যার ফলে স্তন সংবেদনশীল হয় এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে।স্তনে কোমলতা এবং ব্যথা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের অন্যতম লক্ষণ।


২. রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি (Increased Blood Flow): স্তনে রক্ত ​​সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্তন স্ফীত, ভারী এবং আরও সংবেদনশীল মনে হতে পারে, যা ব্যথার কারণ হয়।


৩. স্তনের পরিবর্তন (Breast Changes for Feeding): দুধের নালী এবং স্তন কলা (breast tissue) প্রসারিত হয় এবং বৃদ্ধি পায়। স্তন মাতৃ দুগ্ধ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়,যা ব্যথা এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।


৪. নিপল ও স্তনের ত্বকের পরিবর্তন: স্তনবৃন্ত (nipples) বা তার চারপাশের ত্বক (areola) গাঢ় হতে পারে এবং স্তনবৃন্ত নরম হয়ে যেতে পারে।


সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে এই ব্যথা বেশি অনুভূত হয় এবং এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে, যদি তীব্র ব্যথা হয়, স্তনে চাকা বা পিণ্ড দেখা যায়, অথবা জ্বর বা লালচে ভাব থাকে (যা মাস্টাইটিস-এর লক্ষণ হতে পারে), তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা কেমন হয়?

 

  • ফোলা বা ভারী অনুভূতি: স্তন ফুলে যেতে পারে এবং ভারী লাগতে পারে।
  • স্পর্শকাতরতা (Tenderness): স্তন বা স্তনবৃন্ত (নিপল) স্পর্শ করলে বেশি ব্যথা লাগতে পারে বা সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
  • ব্যথার প্রকৃতি: ব্যথাটি ভোঁতা, টান ধরা বা একটানা যন্ত্রণার মতো হতে পারে, যা হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে।
  • স্তনের পরিবর্তন: স্তনের আকার বড় হতে পারে, নিপল বেশি শক্ত বা স্ফীত লাগতে পারে, এবং নিপলের চারপাশের চামড়া (এরিয়োলা) আরও গাঢ় রঙের হতে পারে।

 

এই ব্যথা সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে (ধারণার ১-২ সপ্তাহ পর) শুরু হয় এবং প্রথম ত্রৈমাসিক (First Trimester) জুড়ে বেশি থাকতে পারে। তবে, গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি সময়ে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে এবং শেষের দিকে আবার দেখা যেতে পারে।যদি ব্যথা খুব তীব্র হয়, অথবা আপনি স্তনে কোনো নতুন চাকা বা পিণ্ড অনুভব করেন, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক স্রাব দেখেন, কিংবা লালচে ভাব বা উষ্ণতা অনুভব করেন (যা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে), তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা কতদিন পর্যন্ত থাকে? 


গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে স্তনে ব্যথা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘটে। তবে, প্রোজেস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যথা থাকতে পারে। এই ব্যথা গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস পর্যন্ত বা প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। 

 

  • কারণ: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্তন ফুলে যাওয়া, সংবেদনশীল এবং ব্যথা অনুভূত হওয়া সাধারণ বিষয়।
  • সময়কাল: গর্ভধারণের এক থেকে দুই সপ্তাহ পর এই লক্ষণগুলো দেখা যায় এবং গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস পর্যন্ত এটি স্থায়ী হতে পারে।
  • করণীয়: গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত, যিনি গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো বুঝতে এবং সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। 
     

গর্ভাবস্থায় স্তনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় কী?


স্তনের ব্যথা ও চাপ চাপ লাগার অনুভূতি আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত না করলে এই ব্যথা নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণত ঔষধ খাওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চলার মাধ্যমেই এই ব্যথা অনেকাংশে কমানো যায়। যেমন—

 

  • ভালো সাপোর্টযুক্ত আরামদায়ক ব্রা ব্যবহার করবেন। নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি যেসব ব্রা ব্যবহার করছেন সেগুলো সঠিক সাইজের এবং খুব বেশি টাইট বা আঁটসাঁট না।

     

  • রাতে ঘুমানোর সময়ে নরম সুতি কাপড়ের স্পোর্টস ব্রা বা হুক ছাড়া ব্রা ব্যবহার করতে পারেন। এতে শোয়ার সময়ে পাশ পরিবর্তন করলে যে ব্যথা হয় সেটি কমতে পারে।

     

  • বরফ বা ঠান্ডা কিছু (যেমন: ফ্রোজেন মটরশুঁটি) একটা নরম ও মোটা সুতির গামছা কিংবা তোয়ালেতে জড়িয়ে স্তনে লাগাতে পারেন। এতে ব্যথা কমে গিয়ে আরাম লাগতে পারে। উল্লেখ্য, একটানা ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বরফ না লাগানোই শ্রেয়।

     

  • উষ্ণ বা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। এতেও কারও কারও ব্যথা উপশম হয়।

     

  • গর্ভাবস্থায় আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা কাপড় পরার চেষ্টা করবেন। এতে স্তনে চাপ কম পড়বে।

     

  • বেশি বেশি ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খাবেন এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিবেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এগুলো স্তনের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

 

গর্ভাবস্থায় স্তনে ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘটে। এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের একটি লক্ষণ।


ঔষধ সেবন করার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ কিছু ওষুধ মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


তবে, স্তনে ব্যথা কমানোর জন্য আপনি কিছু ঘরোয়া প্রতিকার এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন:


১. সঠিক ব্রা ব্যবহার: আরামদায়ক এবং সঠিক আকারের ব্রা পরিধান করুন।স্তনকে পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে পারে এমন ম্যাটারনিটি ব্রা বা স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করতে পারেন,বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময়ও। 

 

২. ঠান্ডা বা গরম সেঁক: হালকা গরম পানিতে  ভেজানো কাপড় অথবা ঠান্ডা সেঁক (আইস প্যাক কাপড়ে মুড়ে) ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

 

৩. আরামদায়ক পোশাক: ঢিলেঢালা এবং আরামদায়ক পোশাক পরিধান করুন। 

 

৪. ব্যথা উপশমকারী ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শে): যদি ব্যথা খুব বেশি হয়, তাহলে আপনি আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা গর্ভাবস্থায় নিরাপদ বলে মনে করেন এমন কিছু সাধারণ ব্যথা উপশমকারী ওষুধ (যেমন: প্যারাসিটামল/এসিটামিনোফেন) সীমিত মাত্রায় সেবনের পরামর্শ দিতে পারেন। 


তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।


যদি ব্যথা খুব তীব্র হয় বা এর সাথে অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবিলম্বে আপনার প্রসূতি বিশেষজ্ঞের (গাইনি ও অবস) সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login