🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভাবস্থায় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা

গর্ভাবস্থায় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা

Written by

Published at

November 28, 2025

গর্ভাবস্থায় ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা

 

গর্ভাবস্থায় ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা একটি গুরুতর অবস্থা।এটি এমন একটি সমস্যা যেখানে শরীরের গভীর শিরায় (সাধারণত পায়ে) রক্ত জমাট বাঁধে।গর্ভাবস্থায় অনেকেরই পায়ে পানি আসে অথবা মুখ ফুলে যায়।এগুলো সাধারণত গর্ভাবস্থার কমন সমস্যা এবং তেমন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না। তবে পা ফুলে যাওয়া কখনো কখনো ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।এটি একটি মারাত্মক সমস্যা যা থেকে প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

 

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস কী


ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (Deep Vein Thrombosis বা DVT) হল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে শরীরের গভীর শিরাগুলির মধ্যে একটিতে রক্ত জমাট (thrombus) তৈরি হয়।

 

  • এটি সাধারণত পায়ের নিচের অংশ বা উরুর গভীর শিরাগুলিতে দেখা যায়,তবে শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে।
  • এই জমাট বাঁধা আক্রান্ত শিরায় রক্ত প্রবাহকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধা দিতে পারে।
     
  •  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

     

  • DVT গুরুতর হতে পারে কারণ এই রক্ত জমাট বাঁধা ভেঙে গিয়ে রক্তপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ফুসফুসে চলে যেতে পারে।
  • ফুসফুসে গিয়ে এটি রক্তনালীকে আটকে দিলে তাকে পালমোনারি এমবোলিজম (Pulmonary Embolism বা PE) বলা হয়, যা একটি প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থা।

 

সাধারণ লক্ষণসমূহ (সবসময় লক্ষণ দেখা নাও যেতে পারে):

 

  • ফোলা: সাধারণত এক পায়ে ফোলা ভাব দেখা যায়, আক্রান্ত স্থানটি টানটান অনুভূত হতে পারে।
  • ব্যথা: পায়ে, বিশেষ করে বাছুরে, খিঁচুনি বা ব্যথার মতো অনুভূতি। হাঁটার সময় বা দাঁড়ানো অবস্থায় ব্যথা বাড়তে পারে।
  • ত্বকের রঙ পরিবর্তন: আক্রান্ত স্থানের ত্বক লাল বা নীলাভ/বেগুনি হয়ে যেতে পারে।
  • উষ্ণতা: আক্রান্ত পা অন্য পায়ের তুলনায় স্পর্শে উষ্ণ অনুভূত হতে পারে।

     

আপনি যদি DVT-এর কোনো লক্ষণ বা পালমোনারি এমবোলিজমের (যেমন: শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন) কোনো উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


গর্ভাবস্থায় কেন ডিভিটি বেশি হয়

 

গর্ভকালীন সময়ে নারীদেহে রক্ত সহজে জমাট বাঁধার প্রবণতা দেখা দেয়; যাতে পরবর্তীতে প্রসবকালীন সময়ে রক্তক্ষরণ কম হয়। আবার পেটে বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে পেলভিস বা শ্রোণিদেশে চাপ বাড়তে থাকে, ফলে পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায়।এ ছাড়া এ সময়টায় তুলনামূলক বেশি বিশ্রামে থাকতে হয়। এসব কারণে গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত নারীদের ডিভিটি এর ঝুঁকি বেশি থাকে।


ভিটামিন ডি-এর অভাবের কারণ ও সমাধান 

 

  • সূর্যালোক: দিনের বেলায় (সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা) ৩০ মিনিট রোদ লাগালে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের একটি সহজ উপায়। বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষেরই ভিটামিন ডি-এর অভাব রয়েছে, যার প্রধান কারণ হলো সূর্যালোকের অভাব।
  • খাবার: ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণের জন্য চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম, দুধ, এবং মাশরুম জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।
  • সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • শিশুর স্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়ের ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অ্যাজমার ঝুঁকি কমে।

     

অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন 

 

  • ভিটামিন এ: গর্ভবতী মহিলাদের দৈনিক 
  • 770770
  • 770 মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ গ্রহণ করতে হবে।
  • ভিটামিন সি: গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স: গর্ভবতী মহিলাদের জন্য দৈনিক 
  • 600600
  • 600 mcg ভিটামিন বি কমপ্লেক্স প্রয়োজন।
  • জিঙ্ক: গর্ভাবস্থায় জিংক গ্রহণ করা অপরিহার্য, কারণ এটি অপরিণত
     

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) এর ঝুঁকি নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থা এবং জীবনধারা যাদের আছে তাদের বেশি। রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে গেলে এই ঝুঁকি বাড়ে।


 ডিভিটি (DVT) এর প্রধান ঝুঁকিগুলো:

নিম্নলিখিত কারণগুলো ডিভিটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়:

 

  • অচলতা বা দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করা:

                      দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা (যেমন: দীর্ঘ বিমান বা গাড়ি ভ্রমণ)।

                      অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের কারণে দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা।

  • বয়স:

          ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

  • অস্ত্রোপচার বা আঘাত:

            শিরায় কোনো আঘাত বা বড় অস্ত্রোপচার, বিশেষ করে নিতম্ব, হাঁটু বা পেটের অস্ত্রোপচার।

     

  • চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ:

         ক্যান্সার এবং এর চিকিৎসা (কেমোথেরাপি)।

         হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা (Heart failure)।

         প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ (Inflammatory bowel disease)।

 

  • শারীরিক অবস্থা:

        স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন।

        গর্ভাবস্থা (এবং প্রসবের ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত)।

  • অন্যান্য বিষয়:

         ধূমপান।

         কিছু ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করা।

         নিজের বা পরিবারের DVT বা পালমোনারি এমবোলিজমের (PE) ইতিহাস থাকা।

        ভেরিকোজ শিরা (Varicose veins)।

         রক্ত জমাট বাঁধার বংশগত রোগ।

 

জার্নি বা সফর-জনিত ডিভিটি প্রতিরোধ

 

লম্বা সময় ধরে জার্নি করলে ডিভিটি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। জার্নিতে যে কাজগুলো করলে আপনার ডিভিটি এর ঝুঁকি কমতে পারে—

  • প্রচুর পানি পান করা
  • ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরা
  • সম্ভব হলে মাঝে মাঝে একটু হাঁটাচলা করা
  • বসা অবস্থায় সাধারণ কিছু পায়ের ব্যায়াম করা। যেমন: কিছুক্ষণ পর পর গোড়ালি নাড়ানো

     

ডিভিটি থেকে হওয়া জটিলতা


ডিভিটি থেকে হওয়া একটি প্রাণনাশক জটিলতা হচ্ছে ‘পালমোনারি এম্বোলিজম’। এই রোগে জমাট বাঁধা রক্ত অথবা অন্য যেকোনো পদার্থ দ্বারা ফুসফুসের রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুসে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রোগের চিকিৎসা করতে হয়; তা না হলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

 

যে লক্ষণগুলোর মাধ্যমে পালমোনারি এম্বোলিজম সন্দেহ করা যায়—

 

  • হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে
  • হঠাৎ অনেক বেশি কাশি হতে থাকলে এবং কাশির সাথে রক্ত গেলে
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজরে ব্যথা অনুভব করলে
  • বুকের যেকোনো এক পাশে কিংবা স্তনের নিচে তীক্ষ্ণ বা সূচালো ব্যথা হতে থাকলে
  • বুকে জ্বালাপোড়া, কামড়ানো কিংবা বুক ভার হয়ে আসছে এমন মনে হলে
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হয়ে গেলে
  • পালস বা হার্টবিট বেড়ে গেলে

     

    ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পরিস্থিতি যার জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসা না হলে পালমোনারি এমবোলিজমের (Pulmonary Embolism) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

     

সাধারণত, ডিভিটি-র চিকিৎসার মধ্যে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Anticoagulants/Blood Thinners): এটি চিকিৎসার প্রাথমিক এবং প্রধান পদ্ধতি।
              এই ওষুধগুলো রক্ত জমাট বাঁধাকে ধীর করে দেয় এবং বিদ্যমান জমাটকে বড় হতে বাধা দেয়, যা শরীরের জমাটকে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে।

              প্রথম দিকে ইনজেকশন (যেমন লো মলিকুলার হেপারিন) এবং পরে মুখে খাবার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন বা ডাইরেক্ট ওরাল অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টস - DOACs) দেওয়া যেতে পারে।                      

  • কম্প্রেশন স্টকিংস (Compression Stockings):

                এগুলো পায়ের রক্তনালীতে চাপ তৈরি করে, যা রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করতে এবং পায়ের ফোলাভাব (swelling) কমাতে সাহায্য করে।

                দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা যেমন পোস্ট-থ্রম্বোটিক সিনড্রোম (Post-thrombotic syndrome) প্রতিরোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

 

  • ক্লট অপসারণের প্রক্রিয়া (Clot Removal Procedures) - বিশেষ ক্ষেত্রে:

              কিছু ক্ষেত্রে, যখন জমাটটি খুব বড় হয় বা অন্যান্য গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে, তখন জমাট অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার বা বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে:

     

             ক্যাথেটার-নির্দেশিত থ্রম্বোলাইসিস (Catheter-directed Thrombolysis): জমাটের স্থানে সরাসরি ওষুধ প্রবেশ করিয়ে ক্লট ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

              থ্রম্বেক্টমি (Thrombectomy): অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমাট অপসারণ করা হয়।

             স্টেন্টিং বা বেলুন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (Stenting or Balloon Angioplasty): রক্তনালীকে খুলে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

আপনি যদি মনে করেন আপনার ডিভিটি-র লক্ষণ দেখা যাচ্ছে (যেমন পায়ে ব্যথা, ফোলাভাব, উষ্ণতা বা লালচে ভাব), তাহলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ডিভিটি-র চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।


 

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login