
Written by
Tasmira Akter

Verified by
Shahnewaj Imran
Published at
December 12, 2025
গর্ভাবস্থায় পেট টানটান বা শক্ত হওয়া স্বাভাবিক,কারণ ক্রমবর্ধমান জরায়ু এবং শিশুর কারণে পেশী প্রসারিত হয়।এটি প্রায়শই Braxton Hicks সংকোচনের কারণে ঘটে,যা শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে। অন্যান্য সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে গ্যাসের সমস্যা,কোষ্ঠকাঠিন্য এবং জরায়ুর প্রসারণের কারণে গোলাকার লিগামেন্টে টান পড়া।যদি ব্যথা তীব্র হয় বা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ থাকে,তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হয় কেন?
গর্ভাবস্থায় আপনার গর্ভের বাড়ন্ত শিশুকে জায়গা দিতে আপনার জরায়ু আকারে বাড়ে। এর ফলে আপনার পেট আঁটসাঁট হয়ে আসতে পারে। স্বাভাবিক কারণে আপনার যেমন এ অনুভূতি হতে পারে,তেমনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে গর্ভপাত কিংবা অকাল প্রসবের মতো জটিল সমস্যা থেকেও পেট শক্ত হতে পারে।
সাধারণ কারণ
বিভিন্ন কারণে আপনার ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন হতে পারে। যেমন—
আপনি যদি প্রথমবারের মতো গর্ভবতী হোন, তাহলে ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচনকে প্রসবের ব্যথার সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারেন।
ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন ও প্রসবের ব্যথার মধ্যে নিচের পার্থক্যগুলো দেখা যায়
| ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন হঠাৎ করেই শুরু হয়। এই সংকোচন সাধারণত অনিয়মিত হয়, কোনো নির্দিষ্ট ছন্দ থাকে না। | প্রকৃত প্রসব ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়মিত ভাবে হয়। এই সংকোচন বা ব্যথার একটি সুনির্দিষ্ট ছন্দ বা ধরন থাকে। |
| ব্যথার স্থায়িত্ব ও তীব্রতা সাধারণত বাড়ে না। | ধীরে ধীরে ব্যথার স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বাড়ে। সময়ের সাথে নিয়মিত বিরতিতে ঘন ঘন ব্যথা হতে থাকে। |
| হাঁটাচলা করলে কিংবা বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা বা সংকোচন কমে আসতে পারে। অবস্থান পরিবর্তন করলেও এই সংকোচন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। | বিশ্রাম, হাঁটাচলা কিংবা অবস্থান পরিবর্তনে প্রকৃত প্রসব ব্যথা সাধারণত কমে না। |
| এই ধরনের ব্যথা সাধারণত পেটের সামনের দিকেই অনুভূত হয়। | প্রকৃত প্রসব ব্যথা সাধারণত কোমরের পেছন দিক থেকে শুরু হয় এবং পরে পেটের সামনের দিকে আসে।
|
যোনিপথে ফোঁটা ফোঁটা কিংবা ভারী রক্তপাত হওয়া
পেট ব্যথা হওয়া বা মাসিকের ব্যথার মতো পেট কামড়ানো
ব্যথা কিংবা রক্তপাত ছাড়াও যোনিপথে হঠাৎ অধিক পরিমাণে তরল বেরিয়ে আসা
যোনিপথে যেকোনো ধরনের টিস্যু জাতীয় পদার্থ বা মাংসপিণ্ডের ন্যায় অংশ বের হয়ে আসা
এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় নিচের কারণ গুলো থাকলে আপনার গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে
বিশ্রাম: আরামদায়ক অবস্থায় বিশ্রাম নিন। বাম দিকে কাত হয়ে শুইলে রক্ত চলাচল ভালো হয়।গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন।সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৭–৯ ঘণ্টার ঘুমকেই আদর্শ বলে ধরা হয়।এর চেয়ে কম ঘুম হলে সেটি আপনার ও গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ও গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়ম মেনে ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন।
পানি পান করুন: পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।শরীরে পানির অভাব থেকে পানিশূন্যতা হলে পেটে টান খাওয়ার মতো এমন অনুভূতি হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন একজন সুস্থ-স্বাভাবিক গর্ভবতী নারীর প্রতিদিন গড়ে ২–৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। কাপ কিংবা গ্লাসের হিসাবে আপনাকে সারাদিনে মোট ৮–১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে। তবে এই বিষয়ে কখনো যদি ডাক্তার কোনো বিশেষ পরামর্শ দিয়ে থাকেন তাহলে সেটিই অনুসরণ করবেন।
খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করুন: কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান। গ্যাস এড়াতে ফোকাস করুন।কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পেট শক্ত হয়ে আসলে সারাদিনে অল্প অল্প করে বেশ কয়েকবার খান। আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। ভাজা-পোড়া খাবার ও কোমল পানীয় (যেমন: কোক, ফান্টা ও পেপসি) এড়িয়ে চলুন।
ব্যায়াম: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম খাবার হজমে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া ব্যায়াম গর্ভাবস্থার নানান জটিলতা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম করা নিরাপদ ও কার্যকর।এটি নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করে। হালকা ব্যায়াম যেমন 'প্রেগনেন্সি যোগা' বা 'পেট শিথিল করার ব্যায়াম' করতে পারেন। এ ছাড়া সময়ের আগে সন্তান প্রসব হওয়া এবং কম ওজনের শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চা করলে নারীরা সন্তান প্রসবের পরে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন হচ্ছে, তাহলে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করুন।যেমন, দাঁড়িয়ে থাকলে শুয়ে পড়ুন।যেকোনো অস্বস্তিকর দেহভঙ্গিতেও এমন হতে পারে,সেক্ষেত্রে আপনার জায়গার পরিবর্তন করে দেখুন।
খুব দ্রুত জায়গা পরিবর্তনেও এমন হতে পারে। শোয়া-বসা থেকে ওঠার সময়ে তাড়াহুড়ো না করে আস্তে ধীরে উঠুন। বসা কিংবা শোয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বালিশ বা কুশন ব্যবহার করে আরামদায়ক অবস্থান তৈরি করে নিন।
. গরম সেঁক বা মালিশ নিন: মাংসপেশির ব্যথায় হালকা মালিশে উপকার পেতে পারেন। তাই হালকা গরম কিছুর সেঁক নিতে পারেন এবং হালকা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন। তবে খুব বেশি গরম এড়িয়ে চলুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি পেট শক্ত হওয়ার সাথে সাথে তীব্র ব্যথা হয়,যদি রক্তক্ষরণ হয়,যদি প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হয়, যদি জ্বর থাকে, যদি বমি হয় প্রতি ৫ মিনিট পর পর বা নির্দিষ্ট বিরতিতে পেটে তীব্র সংকোচন বোধ করলে, এবং সংকোচনগুলো প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে ৬০ সেকেন্ড স্থায়ী হলে ও ক্রমাগত জোরালো হতে থাকলে আপনার গর্ভের শিশুর নড়াচড়া অনুভব করতে না পারলে কিংবা নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে।