
Written by
Tasmira Akter

Verified by
Shahnewaj Imran
Published at
December 12, 2025
গর্ভাবস্থা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো হলো: নিয়মিত মাসিকের অনুপস্থিতি, বমি বমি ভাব ও বমি, ক্লান্তি, স্তনের পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করা। এছাড়া, প্রথম তিন মাস শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ে মায়ের শরীর ও মনে বিভিন্ন পরিবর্তন আসতে পারে, যার মধ্যে বমি ও মেজাজ খিটখিটে হওয়াও অন্তর্ভুক্ত। গর্ভধারণের প্রথম কয়েক মাস ঝুঁকিপ্রবণ হতে পারে, তাই অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি।
শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ
১. গর্ভবতী মায়ের পেটের আকৃতি দেখে গর্ভের শিশু ছেলে না কি মেয়ে তা বোঝা সম্ভব
গর্ভাবস্থায় পেট নিচের দিকে বড় হলে ছেলে এবং ওপরের দিকে বড় হলে বা উঁচু হলে মেয়ে সন্তান হবে—এমনটা অনেকে বলে থাকেন।বিজ্ঞান যা বলে: এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একজন গর্ভবতী নারীর বাড়ন্ত পেট ওপরের দিকে অথবা নিচের দিকে বাড়ার সাথে তার গর্ভের সন্তান মেয়ে কিংবা ছেলে হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে একজন নারী যতবার গর্ভধারণ করেন, তার পেটের পেশিগুলো তত বেশি প্রসারিত হয়। তাই কেউ প্রথমবারের মতো গর্ভধারণ করলে গর্ভাবস্থায় তার পেট হয়তো খুব বেশি নিচে নামে না। এমনকি উঁচু হয়েও থাকতে পারে। এ ছাড়া কারও পেটের পেশিগুলো অপেক্ষাকৃত শক্ত হলে তার বাড়ন্ত পেট কিছুটা উঁচু হয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে তার গর্ভের শিশু ছেলে অথবা মেয়ে—যে কোনোটিই হতে পারে।
২. গর্ভের শিশুর হার্টরেট গুণে শিশুটি ছেলে না কি মেয়ে তা বোঝা যায়
তবে, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং গবেষণা অনুসারে, গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে বা পরে হার্ট রেট দিয়ে শিশুর লিঙ্গ সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না। ভ্রূণের হার্ট রেট প্রতি মিনিটে ওঠানামা করে এবং এটি বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।
শিশুর লিঙ্গ জানার জন্য নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিগুলো হলো:
এই ধরনের লোককথাগুলো শুধুমাত্র মজা করার জন্য বা কৌতুহল মেটানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
৩. গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব বেশি হলে গর্ভের শিশু মেয়ে হয়
বিজ্ঞান যা বলে: শুনতে অবাক লাগলেও এই ধারণা সত্য হতে পারে। কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যেসব গর্ভবতী নারীরা গর্ভে মেয়ে শিশু অথবা যমজ শিশু ধারণ করেন, তাদের গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়েছে যে, গর্ভে মেয়ে শিশু থাকলে এইচসিজি হরমোনের পরিমাণের তারতম্যের কারণে গর্ভবতী নারীর বমি বমি ভাব বাড়তে পারে।তবে এই তথ্যটি এখনো শক্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
শিশুর গঠন ও বৃদ্ধি
৪. গর্ভাবস্থায় বুকে জ্বালাপোড়া করলে গর্ভের শিশু মাথাভর্তি চুল নিয়ে জন্মাবে
বিজ্ঞান যা বলে: শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও একটি গবেষণায় গর্ভাবস্থায় অধিক পরিমাণে বুক জ্বালাপোড়া করার সাথে শিশুর চুল ঘন হওয়ার সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে যে, গর্ভাবস্থায় যেসব নারীরা বেশি বুক জ্বালাপোড়া অনুভব করেছেন, তাদের গর্ভের শিশুর তুলনামূলকভাবে বেশি চুল নিয়ে জন্মেছে।
গবেষকরা ধারণা করেন যে, গর্ভাবস্থায় যেসব হরমোনের কারণে বুকে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়, সেই হরমোনগুলোই সম্ভবত গর্ভের শিশুর চুলের বৃদ্ধির পেছনেও কাজ করে। তবে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
খাবার সংক্রান্ত
গর্ভাবস্থায় শিশুর সঠিক গঠন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য মায়ের স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, হাড় ও পেশি গঠন এবং সার্বিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গর্ভাবস্থায় শিশুর গঠন ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খাবার
গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্য তালিকায় নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবারগুলো থাকা উচিত:
১. আমিষ বা প্রোটিন:
এটি শিশুর পেশি ও টিস্যু গঠনে সহায়তা করে।
খাবারের উৎস: মাছ (সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ), ডিম, মুরগির মাংস, ডাল (যেমন মসুর ডাল), শিম, মটরশুঁটি, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য (যেমন পনির, দই)।
এগুলো শক্তি, আঁশ, আয়রন, বি ভিটামিন এবং ফলিক অ্যাসিড প্রদান করে।
খাবারের উৎস: ভাত (লাল চালের বা ব্রাউন রাইস), রুটি (লাল আটা), ওটস, বার্লি।
৩. ফল ও সবজি:
এগুলো ভিটামিন, মিনারেল এবং আঁশের ভালো উৎস, যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।
খাবারের উৎস: টাটকা ও রঙিন ফলমূল (কলা, আপেল, পাকা পেয়ারা, কমলা, লেবুজাতীয় ফল), গাঢ় সবুজ শাকসবজি (পালং শাক, কচুশাক), মিষ্টি আলু, গাজর, ব্রকলি, টমেটো।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
প্রতিদিনের খাবারের অর্ধেক ফলমূল ও সবজি হওয়া উচিত।
শিশুর দাঁত ও হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়।
খাবারের উৎস: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (পনির, দই), ডিমের কুসুম, কচুশাক, ছোট মাছ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত রোদ লাগানো ভিটামিন ডি পেতে সাহায্য করে।
আয়রন রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) কমায় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে।
ফলিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৯) গর্ভের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ভ্রূণের প্রাথমিক গঠনের জন্য, বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি রোধে অত্যন্ত জরুরি।
খাবারের উৎস: কলিজা (পরিমিত পরিমাণে), পালংশাক, পাঁচমিশালি ডাল, খেজুর, কিশমিশ, ডিম, ব্রোকলি, কমলার জুস।
নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং শিশুর শরীরে পুষ্টির শোষণ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি, ডাবের পানি, জুস পান করা আবশ্যক।
শিশুর ক্ষতি বা অসুস্থতা এড়াতে নিম্নলিখিত খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাস বা খাদ্যতালিকায় কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় শিশুর সঠিক গঠন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য মায়ের স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, হাড় ও পেশি গঠন এবং সার্বিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গর্ভাবস্থায় পেঁপে ও আনারস খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে
বিজ্ঞান যা বলে: গর্ভাবস্থায় সাধারণত বেশি বেশি ফলমূল খেতে উৎসাহিত করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যেমন,গর্ভাবস্থায় কাঁচা অথবা আধাকাঁচা পেঁপে না খাওয়াই ভালো। কাঁচা পেঁপেতে উচ্চমাত্রায় ল্যাটেক্স থাকে। ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ল্যাটেক্স জরায়ুর শক্তিশালী সংকোচন করে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, কাঁচা পেঁপে খেলে সেটি গর্ভের শিশুর জন্য নিরাপদ না-ও হতে পারে।তবে পাকা পেঁপে খেতে কোনো সমস্যা নেই। পাকা পেঁপে ভিটামিন সি-সহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানের একটি ভালো উৎস।অনেকে হয়তো শুনে থাকবেন যে আনারস খেলে গর্ভপাত হয়। এই ধারণার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গর্ভাবস্থায় সাধারণত আনারস খাওয়া নিরাপদ। আনারসে প্রচুর পানি থাকে। সেই সাথে থাকে অনেকখানি ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি। ভিটামিন বি৬ ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে, আর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে এবং হাড় ও মাংস শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।তবে একেবারে অনেক বেশি আনারস না খাওয়াই ভালো, নাহলে বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় খাসির মাংস খেলে বাচ্চার শরীর থেকে বাজে গন্ধ বের হবে
বিজ্ঞান যা বলে: খাসির মাংস খাওয়ার সাথে শিশুর শরীর থেকে বাজে গন্ধ বের হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। খাসির মাংস প্রোটিন ও আয়রনের উৎকৃষ্ট একটি উৎস। এসবের চাহিদা মেটাতে গর্ভবতী মায়েদের ভালোমতো সিদ্ধ করা খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।তবে গরু, খাসি ও ছাগলের মাংসে তুলনামূলকভাবে বেশি চর্বি থাকে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেলে মায়ের অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ার পাশাপাশি হার্টের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গরু-খাসির মাংস অনেক বেশি না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাবেন। খাওয়ার সময়ে চর্বি ছাড়া মাংসের টুকরা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
উল্লেখ্য, প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে খাসির মাংসের পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল ও মুরগির মাংস বেছে নিতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় যমজ কলা খেলে যমজ সন্তান হবে
গর্ভাবস্থায় যমজ কলা অথবা অন্য কোনো ফল খেলে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়—এমন ধারণা প্রচলিত আছে। তবে এর সপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে, কিছু বিষয় যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে কিংবা কমাতে পারে। যেমন,৩৫ বছরের পরে গর্ভধারণ করলে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণের ক্ষেত্রেও যমজ সন্তান হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়।পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের সাথেও যমজ সন্তান হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে যারা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বেশি খান, তাদের মাঝে যমজ সন্তান হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা গেছে।এ ছাড়া উচ্চতা,ওজন ও জেনেটিক কারণেও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে কিংবা কমতে পারে।
মায়ের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা
গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা (Pregnancy: Mother's Health and Care)
গর্ভাবস্থা একজন মায়ের জন্য একটি বিশেষ সময়,যেখানে মা ও সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক পরিচর্যা এবং সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো:
১. নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও চেক-আপ
প্রেগনেন্সি নিশ্চিতকরণ: গর্ভধারণের প্রথম দিকেই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (Obstetrician/Gynecologist) কাছে যেতে হবে।
নিয়মিত চেক-আপ: গর্ভাবস্থার পুরো সময়জুড়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেক-আপ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো খুব জরুরি। এতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা যায়।
ফল ও সবজি: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
শস্য এবং ডাল: পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে।
দুগ্ধজাত পণ্য: ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের জন্য দুধ, দই ইত্যাদি গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
দাঁতের যত্ন: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাড়ির প্রদাহ বা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিন দুবার দাঁত মাজা ও ফ্লস ব্যবহার করা উচিত এবং একবার দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত বা খুব কম ওজন বৃদ্ধি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিশ্রামের ধরন: পিঠের ওপর ভর দিয়ে না শুয়ে, একপাশে পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস করা উচিত, বিশেষত শেষের মাসগুলোতে।
এই সময় শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়, তাই মায়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।
বমি বমি ভাব বা খেতে না পারার সমস্যা (Morning Sickness) হতে পারে। এক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বারে বারে খাবার খান।
অল্প রক্তপাত বা পেটে ব্যথা হলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ বা সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।গর্ভাবস্থার বিভিন্ন ত্রৈমাসিকের (Trimester) পরিচর্যা বা খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আপনি আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে, আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আপনি কি গর্ভাবস্থার কোনো নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকের জন্য বিস্তারিত তথ্য জানতে চান?
বিজ্ঞান যা বলে:সিজারিয়ান অপারেশন বা সিজারের মাধ্যমে প্রথম সন্তানের ডেলিভারি হয়ে থাকলে পরবর্তী সন্তানের ডেলিভারির সময়ে সিজার করাতেই হবে—এই ধারণাটি সঠিক নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম সন্তান সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলেও পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে আপনি নরমাল ডেলিভারি করাতে পারবেন।পরবর্তী শিশু নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে প্রসব করানো নিরাপদ হবে কি না তা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন: প্রথম সন্তানের সময়ে গর্ভধারণ ও প্রসব সংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছিল কি না, পরবর্তী গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভের শিশুর শারীরিক অবস্থা কেমন থাকে, এবং মায়ের প্রসবের রাস্তা, অর্থাৎ জরায়ু থেকে যোনিপথ নরমাল ডেলিভারির জন্য উপযুক্ত কি না।এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিন। তিনি আপনার ও শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জিজ্ঞেস করবেন এবং সেই অনুযায়ী পরামর্শ দিবেন যে পরবর্তী শিশুর নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হবে কি না।