
Written by
Tasmira Akter

Verified by
Shahnewaj Imran
Published at
December 12, 2025
প্রসবের সময় হয়েছে কি না তা বোঝার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যোনিপথে মিউকাস প্লাগ বেরিয়ে আসা।মিউকাস প্লাগ বেরিয়ে আসা মানেই প্রসব শুরু হয়ে যাচ্ছে এমনটা নয়, তবে এটি চিনতে পারা প্রসবের প্রস্তুতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো! মিউকাস প্লাগ বা শ্লেষ্মা প্লাগ হলো জেলির মতো ঘন স্রাবের একটি থোকা,যা গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখের (সার্ভিক্সের) ভেতরের মুখটিকে বন্ধ করে রাখে।
মিউকাস প্লাগ কী?
মিউকাস প্লাগ বা শ্লেষ্মা প্লাগ হলো জেলির মতো ঘন স্রাবের একটি থোকা,যা গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখের (সার্ভিক্সের) ভেতরের মুখটিকে বন্ধ করে রাখে।
এর প্রধান কাজ হলো:
গর্ভাবস্থার শেষের দিকে যখন জরায়ুমুখ প্রসবের জন্য নরম হতে শুরু করে এবং খুলতে থাকে,তখন এই মিউকাস প্লাগটি শরীর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এটি প্রসবের একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যদিও এটি বের হওয়ার সাথে সাথেই যে প্রসব শুরু হবে, এমনটা নয়। প্রসব শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন আগেও এটি বের হতে পারে।
মিউকাস প্লাগ সাধারণত স্বচ্ছ, সাদা, বা সামান্য রক্ত-রঞ্জিত (গোলাপি বা বাদামী) জেলির মতো দেখতে হতে পারে এবং এটি একবারে বা ছোট ছোট অংশেও বের হতে পারে।
মিউকাস প্লাগ কখন বের হয়?
উকাস প্লাগ সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষের দিকে,যখন শরীর প্রসবের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন বেরিয়ে আসে।
তবে এর সময়কাল একেকজনের জন্য ভিন্ন হতে পারে:
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
গর্ভাবস্থায় মিউকাস প্লাগ যেসব কারণে বের হয়ে যেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে—
জরায়ুমুখের প্রসারণ: প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসলে জরায়ুমুখ প্রসারিত হতে শুরু করে। জরায়ুমুখের প্রসারণের সাথে সাথে মিউকাস প্লাগ জরায়ুমুখ থেকে নেমে যোনিতে চলে আসে। ফলে যোনিপথে নির্গত স্রাবের পরিমাণ হঠাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে পুরো মিউকাস প্লাগ বা স্রাবের থোকাটি একবারেই বেরিয়ে আসতে পারে।
জরায়ুমুখের অস্বাভাবিকতা বা সার্ভাইকাল ইনসাফিশিয়েন্সি: আপনার জরায়ু কিংবা জরায়ুমুখে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা থাকলে তা অনেকসময় জরায়ুর ভেতরে ফিটাস বা শিশুটিকে ধরে রাখতে পারে না। এমন অবস্থায় জরায়ুমুখে থাকা মিউকাস প্লাগ কিংবা জরায়ুর ভেতরে থাকা শিশু অনেকসময় সময়ের আগেই বেরিয়ে আসতে পারে।
সহবাস: গর্ভাবস্থায় সহবাস ক্ষতিকর নয়। তবে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সহবাসের ফলে মিউকাস প্লাগ ছুটে আসার আশঙ্কা থাকে। ৩৭ সপ্তাহের পরে মিউকাস প্লাগ বের হয়ে আসলে সেটি সাধারণত কোনো সমস্যা তৈরি করে না। তবে তার আগে হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জরায়ুমুখের পরীক্ষা: গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখ পরীক্ষা করার সময় অসাবধানতাবশত কখনো কখনো স্রাবের থোকা বেরিয়ে আসতে পারে। তবে সচরাচর এমনটা হয় না। তাই এ নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
কিছু অতিরিক্ত তথ্য:
মিউকাস প্লাগ (Mucus Plug) এবং সাধারণ যোনি স্রাবের (Regular Vaginal Discharge) মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | মিউকাস প্লাগ (Mucus Plug) | সাধারণ যোনি স্রাব (Regular Vaginal Discharge) |
| গঠন (Texture) | অত্যন্ত ঘন, আঠালো, জেলির মতো বা পিচ্ছিল। এটি একবারে একটি বড় পিণ্ড হিসাবেও বেরিয়ে আসতে পারে। | সাধারণত পাতলা বা সামান্য ঘন, কখনও কখনও ডিমের সাদার মতো পিচ্ছিল বা ক্রিমি হতে পারে। |
| পরিমাণ (Volume) | সাধারণত বেশি পরিমাণে, প্রায় এক থেকে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ হতে পারে। | পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে, তবে মিউকাস প্লাগের মতো এত বেশি ঘন এবং একবারে বের হয় না। |
| রং (Color) | সাধারণত স্বচ্ছ, ঘোলাটে সাদা বা হালকা হলুদ। প্রসবের সময় এটি বেরিয়ে এলে তাতে গোলাপী, লালচে বা হালকা বাদামী রক্তের রেখা থাকতে পারে (একে "ব্লাডি শো" বা শো বলে)। | সাধারণত স্বচ্ছ বা সাদা। সংক্রমণ না থাকলে এতে রক্তের মিশ্রণ থাকে না। |
| সময়কাল/কারণ (Timing/Cause) | এটি গর্ভাবস্থায় জরায়ুর মুখকে বন্ধ করে রাখে যাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। সাধারণত প্রসবের কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে জরায়ু নরম হতে শুরু করলে বা খুলতে শুরু করলে এটি বেরিয়ে আসে। | মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে (ডিম্বস্ফোটন, মাসিকের আগে/পরে) এবং গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এটি উৎপন্ন হয়। |
| গুরুত্ব (Significance) | গর্ভাবস্থায় মিউকাস প্লাগ বেরিয়ে আসা প্রসব শুরু হওয়ার একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। | এটি যোনিকে পরিষ্কার এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং একটি |
যদি গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহের পর স্রাবের থোকা বের হয় তাহলে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মিউকাস প্লাগ বের হওয়ার কয়েক দিন অথবা সপ্তাহ পরে সক্রিয় প্রসব শুরু হতে পারে। আবার প্রসব প্রক্রিয়ার মধ্যেই মিউকাস প্লাগ বের হয়ে আসতে পারে। তাই শান্ত ও সচেতন থেকে অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
মিউকাস প্লাগ বের হয়ে যাওয়ার পরেও আপনার জরায়ুমুখে স্রাব তৈরি হতে থাকে। যা গর্ভের সন্তানের সুরক্ষা অটুট রাখে। তাই এমন অবস্থায় আপনি স্বাভাবিক জীবনযাপন—এমনকি সহবাসও করতে পারেন।
তবে মিউকাস প্লাগের রঙ, গন্ধ ও ঘনত্ব খেয়াল করতে হবে। যদি স্রাবের রঙ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লাল হয়ে থাকে সেটা যোনিপথে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলুদ অথবা সবুজ কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত হলে সেটি ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।যদি ৩৭ সপ্তাহের আগেই মিউকাস প্লাগ বের হয় এটি অকাল প্রসবের লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসক প্রয়োজনে আপনা