🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন: দৃশ্যমান শিরা

গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন: দৃশ্যমান শিরা

Written by

Tasmira Akter

Shahnewaj Imran

Verified by

Shahnewaj Imran

Published at

December 12, 2025

গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন: দৃশ্যমান শিরা

 

শিশু জন্মের পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত তার যাবতীয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি মায়ের বুকের দুধ থেকেই পেয়ে থাকে। আর এজন্য গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই আপনার শরীরে চলতে থাকে প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্তনের পরিবর্তন যেমন: স্তনের শিরাগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠাগর্ভাবস্থায় স্তনের বোঁটার চারপাশের শিরা বা রক্তনালীগুলো অনেকসময় খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্তনের গায়ে এগুলো বেগুনী বা নীলচে রেখার মত দেখায়। এটি গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন।এতে আতংকিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

এর কারণ হলো:

 

  • রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ে, যা ক্রমবর্ধমান জরায়ু এবং ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
  • স্তনে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি: স্তনদুগ্ধ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কারণে স্তনে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
  • শিরাগুলির প্রসারণ: রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে স্তনের নিচের শিরাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এগুলি সাধারণত নীল বা সবুজ রঙের দেখায়।

 

এটি সাধারণত স্বাভাবিক এবং শরীরের স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ার অংশ।আপনার যদি এই পরিবর্তন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা উচিত।


কখন থেকে এই পরিবর্তন দেখা যাবে?


সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই স্তনের শিরা দৃশ্যমান হয়ে উঠতে শুরু করে। 

 

সাধারণত গর্ভাবস্থা থেকে শুরু হয়ে সন্তান জন্মদানের পরে কিছু সময় পর্যন্ত স্তনের শিরাগুলো দৃশ্যমান থাকতে পারে।  আবার অনেকের ক্ষেত্রে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পুরো সময়টা জুড়েও এটি থাকতে পারে। তবে এর পরে দৃশ্যমান শিরাগুলো সাধারণত নিজে থেকেই চলে যায়।


গর্ভাবস্থায় আপনার স্তনে আরও কিছু সাধারণ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।যেমন—

 

  • স্তনে ব্যথা বা চাপ চাপ লাগা
  • স্তনের আকার আগের চেয়ে বড় হওয়া
  • স্তনের বোঁটা ও এর চারপাশের ত্বকের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া
  • স্তনের বোঁটা থেকে হলুদাভ দুধের মতো তরল বেরিয়ে আসা

 

কেন এই পরিবর্তন?

 

গর্ভাবস্থার প্রথমদিক থেকেই গর্ভবতী নারীর শরীরে রক্ত সরবরাহের পরিমাণ বাড়তে থাকে। সেই সাথে শিরাগুলোও প্রসারিত হয়। এই প্রসারণে গর্ভকালীন হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। এই বাড়তি রক্তের চাপ আর হরমোনের তারতম্যের কারণে রক্তনালীর ওপরে চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে শিরাগুলো কিছুটা ফুলে উঠতে শুরু করে। এভাবেই ফুলে ওঠা শিরাগুলোকে স্তনের গায়ে বেগুনী বা নীলচে রেখা হিসেবে দেখা যায়। 


তবে কখনো কখনো স্তনের শিরাগুলো এভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠার পেছনে আরও কিছু কারণ কাজ করতে পারে। যেমন—

 

  • পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের অন্যদের (যেমন: মা, বোন, খালা অথবা নানী) গর্ভবতী অবস্থায় এমনটা হয়ে থাকলে আপনার গর্ভকালীন সময়েও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
  • স্তনের আকার: স্তনের আকার বড় হলে গর্ভাবস্থায় দৃশ্যমান শিরা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া স্তন বড় করার অপারেশন করিয়েছেন এমন ৯৭ জন নারীর ওপরে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, স্তন বড় করার পরে বেশিরভাগ নারীর স্তনের শিরাগুলো অধিক দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
  • মন্ডর’স ডিজিজ: এটি একটি বিরল রোগ। এই রোগে বুক বা স্তনের চামড়ার নিচে থাকা শিরাগুলোতে প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া হয়। ফলে স্তনের গায়ের শিরাগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

 

চিকিৎসা


কখন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত

 

  • যদি স্তনে কোনো চাকা বা অস্বাভাবিক ফোলা অনুভূত হয়।
  • যদি স্তনে তীব্র ব্যথা হয়, যা সময়ের সাথে সাথে কমছে না।
  • যদি নিপল থেকে অস্বাভাবিক কোনো স্রাব বের হয়। 
  • স্তনে অথবা বগলে চাকা বা দলার ন্যায় অনুভব করা
  • স্তনের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া
  • স্তনে অস্বাভাবিক ব্যথা কিংবা জ্বালাপোড়া হওয়া
  • স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত, পুঁজ কিংবা কোনো অস্বাভাবিক তরল নিঃসৃত হওয়া
  • স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
  • স্তনের চামড়ায় চুলকানি হওয়া অথবা তা লালচে হয়ে যাওয়া
  • স্তনের চামড়ায় টোল বা গর্তের মতো হওয়া
  • স্তনের আকার-আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা

 

এসব লক্ষণের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হয়তো স্বাভাবিক। তবে এগুলো স্তনের বিশেষ কোনো রোগ, এমনকি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণও হতে পারে।তাই ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।


প্রতিরোধ

 

স্তনের শিরাগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠা গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। এটি প্রতিরোধ করার তেমন কোনো উপায় নেই। তা ছাড়া গর্ভাবস্থায় শিরা ফুলে ওঠা আসলে কোনো রোগ বা সমস্যা নয়। বরং এটি অনাগত শিশুর পুষ্টি সরবরাহের জন্য আপনার শরীরের প্রস্তুতি মাত্র। তাই এই সমস্যা নিয়ে বিচলিত না হয়ে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করাই শ্রেয়।কারণ নির্দিষ্ট সময়টুকুর পরে এটি সাধারণত নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়৷

 

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login