
Written by
Tasmira Akter

Verified by
Shahnewaj Imran
Published at
December 12, 2025
সন্তান নেওয়ার আগের প্রস্তুতি
সন্তান নেওয়ার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, যা মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। সন্তান নেওয়ার আগের প্রস্তুতির জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক প্রস্তুতি জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের মতো পরীক্ষা করা এবং ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার খাওয়া। মানসিক চাপ কমিয়ে, সুষম জীবনযাপন করা ও সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ সন্তান জন্মানোর জন্য ফলিক এসিড খুব গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড না থাকলে বাচ্চার ব্রেইন ও মেরুদণ্ডে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ফলিক এসিড
সুস্থ সন্তান জন্মানোর জন্য ফলিক এসিড খুব গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড না থাকলে শিশুর ব্রেইন ও মেরুদণ্ডে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।গর্ভে সন্তান আসার অন্তত ১ মাস আগে থেকেই মায়ের দেহে পর্যাপ্ত ফলিক এসিড থাকা প্রয়োজন। তাই এই পদক্ষেপটা গর্ভধারণের কয়েক মাস আগে থেকেই নিতে হয়। আপনি যখন সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করবেন, তখন থেকেই ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করে দিবেন।
খাবার থেকে ফলিক এসিডের চাহিদা পূরণ সম্ভব?
কিছু খাবার থেকে আমরা ফলিক এসিড পাই। যেমন: পালংশাক ও পাতাকপি। তবে গর্ভের সন্তানের জন্য যে পরিমাণ ফলিক এসিড শরীরে থাকা প্রয়োজন তা শুধুমাত্র খাবার থেকে সাধারণত পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই আলাদা করে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কী পরিমাণে ফলিক এসিড খেতে হয়?
ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেটের ডোজ হবে অন্তত ৪০০ মাইক্রোগ্রাম। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বেশি ডোজ খাওয়া লাগতে পারে। যেমন—
এগুলোর মধ্যে কোনোটি থাকলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেটের ডোজের মাত্রা জেনে নিতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ (Pre-conception Check-up):
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
ওজন নিয়ন্ত্রণ:
বদ অভ্যাস ত্যাগ:
ধূমপান, মদ্যপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ (চা-কফি, কোমল পানীয়) পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এগুলি মা ও অনাগত সন্তানের জন্য ক্ষতিকর।
নিয়মিত ব্যায়াম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
অসুখের চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়ে সতর্কতা:
মানসিক ও জীবনযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
প্রিকনসেপশনাল কাউন্সেলিং: সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। তিনি গর্ভাবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমাধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন।
টিকা মা ও গর্ভে থাকা সন্তানকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যদি কোনো টিকা না নেওয়া থাকে সেটি নিতে হবে।
হেপাটাইটিস বি টিকা
গর্ভবতী অবস্থায় হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। মায়ের থেকে সন্তানও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।হেপাটাইটিস বি টিকা দেয়ার আগে একটা রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় যে আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। আক্রান্ত না হয়ে থাকলে ৩ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। পূর্ণ টিকা নিতে কয়েক মাস সময় লাগে। তাই দ্রুত টিকা নেওয়া শুরু করতে পারলে ভালো। গর্ভবতী অবস্থায়ও এই টিকা নেওয়া যায়।
টিটেনাস টিকা
পূর্বে যদি টিটেনাস টিকার কোর্স সম্পন্ন না করে থাকেন, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে এই টিকার কোর্স শুরু করুন। এই টিকা অনেকের কাছে ‘টিটি টিকা’ নামে পরিচিত। এই টিকা আপনাকে এবং আপনার নবজাতককে ধনুষ্টংকার রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করবে। এই টিকার প্রথম ডোজের এক মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সন্তান প্রসবের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে দুই ডোজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। দুই ডোজ নেয়ার ৬ মাস পরে তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। তিন ডোজ টিকা অন্তত ৫ বছরের জন্য ধনুষ্টংকার থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
অন্যান্য টিকা
এ ছাড়াও আগে যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকাগুলো না নেওয়া থাকে তাহলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে। যেমন ২ ডোজ ‘এমএমআর টিকা’ না দেওয়া থাকলে গর্ভের শিশু রুবেলাতে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে তার হার্ট, ব্রেইন, চোখ ও কানে সমস্যা হতে পারে—এমনকি গর্ভপাত হতে পারে।‘এমএমআর টিকা’ গর্ভবতী নারীদেরকে দেওয়া যায় না। এটি গর্ভধারণের পূর্বেই দিতে হয়। টিকা দেওয়ার পর ১ মাস পর্যন্ত বাচ্চা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়।
আয়রন
আমাদের দেশে অনেক নারী আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতায় ভোগেন, কিন্তু জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন। খাবারে পর্যাপ্ত আয়রনের অভাব, মাসিকের সময় রক্ত যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে আয়রনের অভাব হতে পারে। গর্ভবতী অবস্থায় আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা না থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়েরা এই রোগে ভুগলে নানান জটিলতা হতে পারে। যেমন—
তাই বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে দেখুন আপনার এই রোগটি আছে কি না। যদি রোগ ধরা পরে, তাহলে মাত্র কয়েক মাস আয়রন ট্যাবলেট সেবন করে এই রোগ সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তোলা যায়।
রোগ নিয়ন্ত্রণ
কিছু রোগ আছে যা গর্ভধারণের সময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো বুঝে নিন। যেমন—
একজন চিকিৎসক এসকল বিষয়ে কী করতে হবে তা জানাবেন। খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো বিষয় চিকিৎসককে জানানো বাদ না যায়।
সুস্থ মা-বাবাই একটি সুস্থ ও সুন্দর শিশুর জন্ম দিতে পারেন। তাই সন্তান নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।