গর্ভধারণের ৪২তম সপ্তাহ
গর্ভধারণের স্বাভাবিক সময়কাল সাধারণত ৪০ সপ্তাহ। যখন গর্ভাবস্থা ৪২তম সপ্তাহে পৌঁছায়, তখন এটি পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি (Post-term Pregnancy) বা বিলম্বিত গর্ভাবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ৪০ সপ্তাহ পেরোনোর পরও প্রসব না হলে, মা ও শিশুর উভয়ের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। তাই এই সময়ে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা খুবই জরুরি। গর্ভধারণের ৪২তম সপ্তাহটি একটি পূর্ণ মেয়াদী গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়। এই সময়ে শিশুর নড়াচড়া কমে যেতে পারে, যা স্বাভাবিক, কারণ শিশুর আকার বড় হয়ে যায় এবং মায়ের পেটে নড়াচড়ার স্থান কমে যায়। যদি শিশুর নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, ডাক্তার কার্ডিওটোকোগ্রাফি (CTG) করে শিশুর হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করতে পারেন। এই সপ্তাহে প্রসবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি এবং প্রয়োজনে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।
৪২ সপ্তাহে বাচ্চার বৃদ্ধি
আপনার গর্ভের শিশুর ওজন এখন প্রায় ৩–৪ কেজি। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় তবুও আপনি কল্পনা করে নিতে পারেন যে, আপনার গর্ভে ছোট্ট শিশু এখন প্রায় একটি বড় কাঁঠালের সমান লম্বা।
শিশু জন্মের সম্ভাব্য তারিখ
শিশু জন্মের সম্ভাব্য তারিখ এখন পার হয়ে যাওয়ার কথা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য তারিখের ২ সপ্তাহ আগে কিংবা পরের সময়টুকুতে শিশু পৃথিবীর আলোতে আসে।তাই ঘাবড়ে যাবেন না। যেকোনো মুহূর্তে প্রসব শুরু হতে পারে!
শিশুর ঘুমের রুটিন
গর্ভের ভেতরে আপনার শিশুর একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমানোর এবং একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে জেগে থাকার রুটিন আছে। আপনি যখন ঘুমাতে যাচ্ছেন তখন হয়তো আপনার শিশু পুরোপুরি জেগে আছে। এমনকি সে হয়তো নড়াচড়া করতে ব্যস্ত।
ছোট্ট শিশু এখনো নিয়মিত নড়াচড়া করছে
আপনার গর্ভের শিশু এখন বেশ বড়সড় হয়ে গিয়েছে। তাই গর্ভের ভেতরে সে এখন অনেকটা চাপাচাপি করে শুয়ে আছে। তবুও তার নড়াচড়া কমে কিংবা বন্ধ হয়ে যাবে না।
শিশু তার নির্দিষ্ট ধরনে এখনো নিয়মিতভাবে নড়াচড়া করতে থাকবে। আপনার গর্ভের শিশুর নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি ভিত্তিতে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। কেননা এটি কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
নড়াচড়া কমেছে কি না সেটা বুঝতে কষ্ট হলে বাম কাত হয়ে ২ ঘন্টা শুয়ে থাকুন। এসময়ে ১০ বারের কম নড়াচড়া টের পেলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।নড়াচড়া কমে যাওয়া মানেই যে খারাপ কিছু ঘটে গেছে, এমন না। তবে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া প্রয়োজন।
৪২তম সপ্তাহে করণীয়:
১. ডাক্তারের পরামর্শ: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ডাক্তার মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপের পরামর্শ দেবেন।
২. নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: ডাক্তার আপনার এবং আপনার শিশুর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন,
যেমন: * শিশুর নড়াচড়া: শিশুর নড়াচড়া ঠিক আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখুন এবং কোনো পরিবর্তন দেখলে দ্রুত ডাক্তারকে জানান। *
অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ: আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে জরায়ুর ভেতরে থাকা জলের (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড) পরিমাণ দেখা হতে পারে, কারণ এই সময়ে তা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
* নন-স্ট্রেস টেস্ট (NST) বা বায়োফিজিক্যাল প্রোফাইল (BPP): শিশুর হৃদস্পন্দন এবং সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এই পরীক্ষাগুলো করা হতে পারে।
৩. প্রসব শুরু করার উদ্যোগ (Induction of Labor): * যেহেতু প্রসবের স্বাভাবিক সময় পেরিয়ে গেছে, তাই ডাক্তার মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কৃত্রিম উপায়ে প্রসব শুরু করার (Induction) পরামর্শ দিতে পারেন। * প্রসব শুরুর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে, যা আপনার শরীরের অবস্থা ও সার্ভিক্সের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে।
৪. সি-সেকশন (C-Section): * কিছু ক্ষেত্রে, যদি কৃত্রিমভাবে প্রসব শুরু করা সম্ভব না হয় বা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তবে ডাক্তার
সিজারিয়ান সেকশন (C-Section) বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবের পরামর্শ দিতে পারেন।
৫. স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা: *
- পুষ্টিকর খাবার: স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবার খাওয়া চালিয়ে যান।
- পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন।
- * বিশ্রাম: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
- * হাঁটাচলা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা হাঁটাচলা করুন, তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
অন্যান্য লক্ষণ
এ সপ্তাহে আপনার আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো—
- পেট টান-টান বা শক্ত হওয়া: গর্ভাবস্থায় আপনার পেটে ব্যথা ও যন্ত্রণা হওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি হতে পারে। এমন একটি অনুভূতি হলো পেট শক্ত হওয়া বা পেট আঁটসাঁট হয়ে আসছে মনে হওয়া। একে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্র্যাকশনও বলা হয়
- ঘুমের সমস্যা: গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করে। এসবের পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত নানান পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলোর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকসময় ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
- স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ: গর্ভাবস্থায় স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হলেও এটি থেকে চুলকানি হতে পারে—যা বেশ অস্বস্তিকর। এ ছাড়া অনেকেই মনে করেন স্ট্রেচ মার্ক সৌন্দর্যহানির কারণ এবং এগুলো নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। কিছু সহজ উপায় মেনে চলে গর্ভাবস্থায় স্ট্রেচ মার্ক বা চামড়ার ফাটা দাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব
- দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়া: গর্ভকালের প্রথম ট্রাইমেস্টার থেকেই কারও কারও মাড়ি ফুলে যেতে পারে এবং মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তবে সাধারণত গর্ভকাল বাড়ার সাথে সাথে এই সমস্যার প্রকোপ বাড়ে।
- পেটের আকার বাড়ার সাথে সাথে পেটের চারপাশের পেশিতে ব্যথা করা:গর্ভধারণের শুরু থেকেই আপনার পেট ব্যথা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেট ব্যথা তেমন দুশ্চিন্তার কারণ নয়। তবে পেট ব্যথার পাশাপাশি গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
- পাইলস: গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে। ফলে নানান রকম হরমোনের মাত্রা বাড়ে-কমে। বৃহদান্ত্র ও মলদ্বারের পেশি এবং রক্তনালীগুলো এরূপ শিথিল থাকার কারণে গর্ভবতীর পাইলস দেখা দেয়।
- মাথা ব্যথা: সাধারণ মাথা ব্যথা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর না হলেও আপনার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে কিছু সহজ পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে আপনি অনেকাংশেই মাথা ব্যথা এড়িয়ে চলতে পারবেন।
- কোমর ব্যথা: গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হওয়ার ঘটনা খুব কমন। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এই ধরনের ব্যথা বেশী হয়ে থাকে।
- পেট ফাঁপা লাগা: গর্ভাবস্থায় পেট ফাঁপা আপনার জন্য অস্বস্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটি ঘরে বসেই নিরাময় করা যেতে পার।
- কোষ্ঠকাঠিন্য: গর্ভধারণের একেবারে প্রথম দিকের সময় থেকেই সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন মাস পর পর্যন্তও আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে পারেন। জীবনধারায় কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা সম্ভব।
- বদহজম ও বুক জ্বালাপোড়া করা: বুক জ্বালাপোড়া অথবা বদহজমের সমস্যা গর্ভাবস্থার যেকোনো সময়েই শুরু হতে পারে। তবে সাধারণত গর্ভকাল বাড়ার সাথে সাথে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে থাকে। ঘরোয়া কিছু নিময় মেনে চললে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
- অল্পতেই গরম লাগা কিংবা সামান্য গরম আবহাওয়াতেই অস্বস্তি বোধ করা: অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা থেকে হিট এক্সোশন, হিট স্ট্রোক এর মতো জটিলতাও হবার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় গরম লাগার সাথে সাথে যদি শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়, তবে সেটি আপনার গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- পা কামড়ানো: সাধারণত গর্ভাবস্থায় পা কামড়ানো কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। তবে পা কামড়ালে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কিছু সহজ উপদেশ মেনে চললে আপনি পা কামড়ানোর সমস্যা থেকে অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারেন।
- মাথা ঘুরানো:সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষদিকে মাথা ঘুরানোর সমস্যা শুরু হয়। এরপর সমগ্র গর্ভকাল জুড়েই এই সমস্যা থাকতে পারে।
- হাত–পায়ে পানি আসা বা ফুলে যাওয়া: গর্ভাবস্থায় শরীর কিছুটা ফুলে যাওয়া বেশ স্বাভাবিক। বিশেষ করে পা, পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতা ও আঙুল এভাবে ফুলে যেতে দেখা যায়। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এই ধরনের সমস্যা বেড়ে যায়।
- প্রস্রাবের রাস্তায় ইনফেকশন হওয়া: ইউরিন ইনফেকশন মূত্রতন্ত্রের রোগ। এই রোগে প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া অথবা ঘনঘন প্রস্রাব হতে পারে।
- যোনিপথে ইনফেকশন হওয়া: গর্ভকালীন নানান শারীরিক ও হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে শরীরের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি যোনিপথে চুলকানি হতে পারে। তবে কখনো কখনো এই চুলকানি যোনিপথে ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।
- মুখে মেছতার মতো বাদামি ও ছোপ ছোপ দাগ পড়া
- তৈলাক্ত ত্বক ও ত্বকে দাগ পড়া
- চুল ঘন ও ঝলমলে হওয়া
এ ছাড়াও এই সপ্তাহে আপনার প্রথম দিকের সময়ের লক্ষণগুলো থাকতে পারে। যেমন—
- ঘন ঘন মনমেজাজ বদলানো বা মুড সুইং: গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের বেশ কিছু শারীরিক, শারীরবৃত্তিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে। এসব গর্ভাবস্থাজনিত কারণের প্রভাবেই আপনার মুড সুইং হতে পারে। তবে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনি মুড সুইং এর সমস্যা অনেকটাই এড়িয়ে চলতে পারেন। এই খুশি, আবার এই মন খারাপ—এমনটা হতে পারে। পাশাপাশি এই সময়ে ছোটোখাটো বিষয়ে মন খারাপ লাগা অথবা কান্না করে ফেলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
- বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া: গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া তেমন গুরুতর কোনো সমস্যা নয়। কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই বমি ভাব ও বমি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
- অদ্ভুত জিনিস খাওয়ার ইচ্ছা হওয়া: গর্ভাবস্থায় পছন্দমতো খাবার খেতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। পছন্দমতো খাবার খাওয়ার পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও খেয়াল রাখতে হবে। যেমন: মাটি
- তীব্র ঘ্রাণশক্তি: গর্ভধারণ করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। ঘ্রাণশক্তি আগের চেয়ে তীব্র হয়ে পড়াও এমনই একটি উপসর্গ।
- স্তনে ব্যথা: গর্ভধারণের ফলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রভাবে স্তন ও স্তনের বোঁটা স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ফলে আপনার স্তনে ব্যথা হতে পারে।
- স্তন থেকে তরল নিঃসৃত হওয়া: শিশু জন্মের পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত তার যাবতীয় পুষ্টি মায়ের বুকের দুধ থেকে পায়। এজন্য গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই আপনার দেহ স্তনকে প্রস্তুত করতে থাকে। ফলে পুরো গর্ভাবস্থা জুড়ে আপনার স্তনে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হতে থাকে।
- সাদাস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া:
- যোনিপথ দিয়ে হালকা রক্তপাত হওয়া: গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন কারণে যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। যোনিপথে রক্তপাত সবসময়ই কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ না হলেও এটি কখনো কখনো মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে অবশ্যই একজন ডাক্তার দেখাবেন, কারণ এটা মারাত্মক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে
জরুরি লক্ষণ:
নিম্নলিখিত যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যান বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন:
- তীব্র ও নিয়মিত প্রসব বেদনা (সংকোচন)।
- যোনিপথ থেকে রক্তপাত বা জলের মতো তরল বের হওয়া (পানি ভেঙে যাওয়া)।
- শিশুর নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
- তীব্র মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, বা পেটে তীব্র ব্যথা।
৪২তম সপ্তাহে প্রসবের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।
ডাক্তারের পরামর্শ:
- গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়টি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা উচিত।
- প্রয়োজনে ডাক্তার কার্ডিওটোকোগ্রাফি (CTG) এর মাধ্যমে শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারেন।
এ সপ্তাহে বাবার করণীয়
এসময়ে সপ্তাহে একবার করে চেকআপে যাওয়া জরুরি। চেকআপে গেলে ডাক্তার পরামর্শ দিবেন যে কৃত্রিমভাবে প্রসব শুরু করতে হবে কি না বা সিজার করা লাগবে কি না। যে পদ্ধতি মা ও শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত, ডাক্তার সেই ব্যাপারে আপনাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। তাই এখনো এ সপ্তাহের চেকআপ না করিয়ে থাকলে আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে চেকআপের ব্যবস্থা করুন। শেষ পর্যায়ের এই চেকআপগুলোতে আপনি অবশ্যই সাথে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
সেরে ওঠা সম্পর্কে জানুন
প্রসবের পর শিশুর মায়ের সেরে উঠতে বেশ সময় লাগতে পারে। এসময়ে আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন তা নিয়ে এখন থেকে জানাশোনা শুরু করুন। প্রসব-পরবর্তী চেকআপের শিডিউলসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান জেনে রাখতে আমাদের এই লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মায়ের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে আপনার সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে—সেজন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। শিশুর সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশুর মায়ের খাওয়াদাওয়া, ব্যায়াম ও বিশ্রাম ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করুন।
মাথা ঠাণ্ডা রেখে অপেক্ষা করুন
আপনাদের সন্তান এখন যেকোনো মুহূর্তে জন্মগ্রহণ করতে পারে! এই অনিশ্চয়তাকে চাপ হিসেবে না নিয়ে যতটা সম্ভব উপভোগ করুন। ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে দুশ্চিন্তা কমানো সহজ হতে পারে। সম্ভব হলে নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করুন। মাথা থেকে দুশ্চিন্তা সরিয়ে পছন্দের কোনো কাজ করে সময় কাটান।