
Written by
Tasmira Akter

Verified by
Shahnewaj Imran
Published at
December 12, 2025
প্রথম গর্ভাবস্থার ৪১তম সপ্তাহে ব্যথা উঠলে, এটি স্বাভাবিক প্রসবের লক্ষণ হতে পারে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই পর্যায়ে ব্যথার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ যেমন – পানি ভাঙা, রক্তপাত বা শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। এই সময়ে করণীয় হলো:
৪১ সপ্তাহে বাচ্চার বৃদ্ধি
আপনার গর্ভের শিশুর ওজন এখন প্রায় ৩–৪ কেজি। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় তবুও আপনি কল্পনা করে নিতে পারেন যে, আপনার গর্ভে ছোট্ট শিশু এখন প্রায় একটি বড় কাঁঠালের সমান লম্বা।
শিশুর ঘুমের রুটিন
গর্ভের ভেতরে আপনার শিশুর একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমানোর এবং একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে জেগে থাকার রুটিন আছে। আপনি যখন ঘুমাতে যাচ্ছেন তখন হয়তো আপনার শিশু পুরোপুরি জেগে আছে। এমনকি সে হয়তো নড়াচড়া করতে ব্যস্ত।
ছেলে শিশুর শুক্রাশয় নিচে নেমেছে
আপনার গর্ভের শিশু ছেলে হয়ে থাকলে এখন সম্ভবত তার শুক্রাশয় নীচের দিকে নেমে গেছে। অর্থাৎ তার শুক্রাশয় এখন স্ক্রোটাম বা শুক্রথলিতে আছে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ছেলে শিশুদের শুক্রাশয় পেটের দিকে থাকে। পরবর্তীতে তা নীচে নেমে শুক্রথলির ভেতরে প্রবেশ করে।
ছোট্ট শিশু এখনো নিয়মিত নড়াচড়া করছে
আপনার গর্ভের শিশু এখন বেশ বড়সড় হয়ে গিয়েছে। তাই গর্ভের ভেতরে সে এখন অনেকটা চাপাচাপি করে শুয়ে আছে। তবুও তার নড়াচড়া কমে কিংবা বন্ধ হয়ে যাবে না। শিশু তার নির্দিষ্ট ধরনে এখনো নিয়মিতভাবে নড়াচড়া করতে থাকবে। আপনার গর্ভের শিশুর নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি ভিত্তিতে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।কেননা এটি কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। নড়াচড়া কমেছে কি না সেটা বুঝতে কষ্ট হলে বাম কাত হয়ে ২ ঘন্টা শুয়ে থাকুন। এসময়ে ১০ বারের কম নড়াচড়া টের পেলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।নড়াচড়া কমে যাওয়া মানেই যে খারাপ কিছু ঘটে গেছে, এমন না। তবে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া প্রয়োজন।
৪১ সপ্তাহে মায়ের শরীর
ইতোমধ্যে সম্ভবত আপনার ডেলিভারি ডেট পার হয়ে গেছে। এখনো প্রসব বেদনা ওঠেনি দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। সম্ভাব্য তারিখের কয়েকদিন আগে-পরে ডেলিভারি হওয়া স্বাভাবিক। নিয়মিত চেকআপ চালিয়ে যাবেন। এ সপ্তাহ পার হয়ে আরও দেরি হতে থাকলে বিকল্প কী কী উপায়ে প্রসব শুরু করানো যায়, তা নিয়ে ডাক্তার আপনার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আপনিও সে অনুযায়ী মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারবেন।
প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসব শুরু করা
ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রসব শুরু করানো নিয়ে অনেক ধারণা প্রচলিত আছে। আপনি হয়তো শুনেছেন যে, ঝাল তরকারি খেলে অথবা খেজুর খেলে, স্তনের বোঁটা উত্তেজিত করলে, সহবাস করলে অথবা বেশি বেশি হাঁটলে প্রসব শুরু হয়। এগুলোর মধ্যে কোনোটা আপনার চেষ্টা করতে ইচ্ছে হতে পারে। এসবের মধ্যে দুই-একটা ধারণার পক্ষে কিছু প্রমাণ আছে। যেমন, একটা ছোটো পরিসরের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখের আগের ৪ সপ্তাহে যারা নিয়মিত খেজুর খেয়েছেন, তাদের প্রাকৃতিকভাবে প্রসব শুরুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। আরেকটা গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থার ৩৮তম সপ্তাহ থেকে যারা সপ্তাহে ৩ বার আধা ঘণ্টা করে হাঁটতেন, তাদের ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে প্রসব শুরু করার প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতার পক্ষে এখনও যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই কোনো টোটকা চেষ্টা করে দেখতে চাইলে যেই অপশনটি আপনার জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত, কেবল সেটাই বেছে নিবেন।
লক্ষণ ও করণীয়
করণীয় এবং কখন হাসপাতালে যাবেন:
৩. জরুরী অবস্থার লক্ষণ: নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির যেকোনো একটি দেখা গেলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তার বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন:
পরামর্শ: যেহেতু আপনি ৪১তম সপ্তাহে আছেন, আপনার ডাক্তার এই সময় আপনার এবং আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ব্যথার ধরন, তীব্রতা এবং অন্যান্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে পরামর্শ করুন। তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারবেন।