🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
গর্ভধারণের ৪১তম সপ্তাহ

গর্ভধারণের ৪১তম সপ্তাহ

Written by

Tasmira Akter

Shahnewaj Imran

Verified by

Shahnewaj Imran

Published at

December 12, 2025

গর্ভধারণের ৪১তম সপ্তাহ

 

প্রথম গর্ভাবস্থার ৪১তম সপ্তাহে ব্যথা উঠলে, এটি স্বাভাবিক প্রসবের লক্ষণ হতে পারে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই পর্যায়ে ব্যথার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ যেমন –  পানি ভাঙা, রক্তপাত বা শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। এই সময়ে করণীয় হলো: 


৪১ সপ্তাহে বাচ্চার বৃদ্ধি

 

আপনার গর্ভের শিশুর ওজন এখন প্রায় ৩–৪ কেজি। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় তবুও আপনি কল্পনা করে নিতে পারেন যে, আপনার গর্ভে ছোট্ট শিশু এখন প্রায় একটি বড় কাঁঠালের সমান লম্বা।


শিশুর ঘুমের রুটিন


গর্ভের ভেতরে আপনার শিশুর একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমানোর এবং একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে জেগে থাকার রুটিন আছে। আপনি যখন ঘুমাতে যাচ্ছেন তখন হয়তো আপনার শিশু পুরোপুরি জেগে আছে। এমনকি সে হয়তো নড়াচড়া করতে ব্যস্ত।


ছেলে শিশুর শুক্রাশয় নিচে নেমেছে


আপনার গর্ভের শিশু ছেলে হয়ে থাকলে এখন সম্ভবত তার শুক্রাশয় নীচের দিকে নেমে গেছে। অর্থাৎ তার শুক্রাশয় এখন স্ক্রোটাম বা শুক্রথলিতে আছে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ছেলে শিশুদের শুক্রাশয় পেটের দিকে থাকে। পরবর্তীতে তা নীচে নেমে শুক্রথলির ভেতরে প্রবেশ করে।


ছোট্ট শিশু এখনো নিয়মিত নড়াচড়া করছে


আপনার গর্ভের শিশু এখন বেশ বড়সড় হয়ে গিয়েছে। তাই গর্ভের ভেতরে সে এখন অনেকটা চাপাচাপি করে শুয়ে আছে। তবুও তার নড়াচড়া কমে কিংবা বন্ধ হয়ে যাবে না। শিশু তার নির্দিষ্ট ধরনে এখনো নিয়মিতভাবে নড়াচড়া করতে থাকবে। আপনার গর্ভের শিশুর নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি ভিত্তিতে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।কেননা এটি কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। নড়াচড়া কমেছে কি না সেটা বুঝতে কষ্ট হলে বাম কাত হয়ে ২ ঘন্টা শুয়ে থাকুন। এসময়ে ১০ বারের কম নড়াচড়া টের পেলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।নড়াচড়া কমে যাওয়া মানেই যে খারাপ কিছু ঘটে গেছে, এমন না। তবে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া প্রয়োজন।


৪১ সপ্তাহে মায়ের শরীর

 

ইতোমধ্যে সম্ভবত আপনার ডেলিভারি ডেট পার হয়ে গেছে। এখনো প্রসব বেদনা ওঠেনি দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। সম্ভাব্য তারিখের কয়েকদিন আগে-পরে ডেলিভারি হওয়া স্বাভাবিক। নিয়মিত চেকআপ চালিয়ে যাবেন। এ সপ্তাহ পার হয়ে আরও দেরি হতে থাকলে বিকল্প কী কী উপায়ে প্রসব শুরু করানো যায়, তা নিয়ে ডাক্তার আপনার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আপনিও সে অনুযায়ী মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারবেন।


প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসব শুরু করা


ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রসব শুরু করানো নিয়ে অনেক ধারণা প্রচলিত আছে। আপনি হয়তো শুনেছেন যে, ঝাল তরকারি খেলে অথবা খেজুর খেলে, স্তনের বোঁটা উত্তেজিত করলে, সহবাস করলে অথবা বেশি বেশি হাঁটলে প্রসব শুরু হয়। এগুলোর মধ্যে কোনোটা আপনার চেষ্টা করতে ইচ্ছে হতে পারে। এসবের মধ্যে দুই-একটা ধারণার পক্ষে কিছু প্রমাণ আছে। যেমন, একটা ছোটো পরিসরের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখের আগের ৪ সপ্তাহে যারা নিয়মিত খেজুর খেয়েছেন, তাদের প্রাকৃতিকভাবে প্রসব শুরুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। আরেকটা গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থার ৩৮তম সপ্তাহ থেকে যারা সপ্তাহে ৩ বার আধা ঘণ্টা করে হাঁটতেন, তাদের ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে প্রসব শুরু করার প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতার পক্ষে এখনও যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই কোনো টোটকা চেষ্টা করে দেখতে চাইলে যেই অপশনটি আপনার জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত, কেবল সেটাই বেছে নিবেন।


লক্ষণ ও করণীয়

 

  • ব্যথা: এই পর্যায়ে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক, যা প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। যদি ব্যথা নিয়মিত বিরতিতে হতে থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 
  • পানি ভাঙা: যদি পানি ভাঙার মতো অনুভূতি হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। এটি প্রসব শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। 
  • রক্তপাত: যোনিপথে রক্তপাত হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। যদিও অল্প রক্তপাত স্বাভাবিক, তবে বেশি হলে তা বিপদের কারণ হতে পারে। 
  • শিশুর নড়াচড়া: যদি আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে কম নড়াচড়া অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। 
  • অতিরিক্ত অস্বস্তি: যদি অতিরিক্ত ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ওষুধ: কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ নিজে থেকে সেবন করা থেকে বিরত থাকুন, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন। 
  • বিশ্রাম: এই সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

 

করণীয় এবং কখন হাসপাতালে যাবেন:

 

  • শান্ত থাকুন: ব্যথা শুরু হলে ঘাবড়ে না গিয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।
  • শ্বাসের ব্যায়াম: প্রতিটি সংকোচনের সাথে সময় নিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে ব্যথা সহ্য করতে সুবিধা হতে পারে।
  • বিশ্রাম নিন বা নড়াচড়া করুন: শুয়ে থাকলে অবস্থান পরিবর্তন করে দেখুন, বা হালকা হাঁটাহাঁটি বা পেলভিক মুভমেন্ট করুন। হালকা গরম জলে স্নানও আরাম দিতে পারে।

 

  • হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন: যদি ব্যথা প্রসব বেদনার মতো মনে হয় (অর্থাৎ, নিয়মিত, ঘন ঘন এবং তীব্র হতে থাকে), তবে এটি হাসপাতালে যাওয়ার সময় হতে পারে। সাধারণত যখন সংকোচনগুলি:
    • ৬ ০ সেকেন্ড (এক মিনিট) ধরে থাকে
    • ৩ থেকে ৫ মিনিট অন্তর আসে
    • এক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে (৫-১-১ নিয়ম) তখন হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত।

 

৩. জরুরী অবস্থার লক্ষণ: নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির যেকোনো একটি দেখা গেলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তার বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন:

 

  • পানির থলি ফেটে যাওয়া (Water Breaking): যোনিপথ দিয়ে পানির মতো স্রাব বের হওয়া।
  • রক্তপাত (Bleeding): উজ্জ্বল লাল রক্তপাত বা অস্বাভাবিক বাদামী স্রাব।
  • তীব্র বা অসহ্য ব্যথা: যদি ব্যথা হঠাৎ করে তীব্র বা অবিরাম হয় এবং বিশ্রাম নিলেও না কমে।
  • শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

 

পরামর্শ: যেহেতু আপনি ৪১তম সপ্তাহে আছেন, আপনার ডাক্তার এই সময় আপনার এবং আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ব্যথার ধরন, তীব্রতা এবং অন্যান্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে পরামর্শ করুন। তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারবেন।

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login