🚚 Free delivery on orders above Tk 999 | 🎉 Get extra on first order
শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল

শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল

Written by

Published at

November 29, 2025

শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল

 

শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল একটি বহুল ব্যবহৃত এবং সাধারণত নিরাপদ ওষুধ,যা জ্বর কমানো এবং ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়।এটি প্রায়ই মাথাব্যথা,পেট ব্যথা, কানের ব্যথা ও সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।এ ছাড়া জ্বর কমাতেও সচরাচর প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।প্যারাসিটামল খুবই নিরাপদ হলেও, সঠিক মাত্রা (ডোজ) এবং সেবনবিধি শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কম বা বেশি মাত্রায় দিলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে,বিশেষ করে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।


শিশুদের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের ব্যবহার সংক্রান্ত মূল পাঁচটি তথ্য

 

  • শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যারাসিটামল রয়েছে।শিশুর বয়সের ওপর,এমনকি কখনো কখনো শিশুর ওজনের ওপর কোন শক্তিমাত্রার প্যারাসিটামল কত ডোজে খাওয়াতে হবে—সেটি নির্ভর করে।তাই শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর আগে সবসময় ঔষধের সাথে থাকা নির্দেশিকা ভালো করে পড়ে নিতে হবে।
  • সাধারণত ট্যাবলেট অথবা সিরাপ খাওয়ানোর আধা ঘণ্টার মধ্যে শিশু কিছুটা সুস্থ বোধ করতে শুরু করে।সাপোজিটরি পুরোপুরি কাজ করতে এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
  • শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর সময়ে তাকে প্যারাসিটামল মেশানো অন্য কোনো ঔষধ দেওয়া যাবে না।কফ ও সর্দিকাশির কিছু ঔষধে প্যারাসিটামল মেশানো থাকে,তাই এগুলো খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।এসব ঔষধ খাওয়ানোর আগে প্যাকেটের ভেতরে থাকা নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে প্যারাসিটামল মেশানো আছে কি না সেটি দেখে নিতে হবে।
  • প্যারাসিটামল ছোটো-বড় সবার ব্যথা ও জ্বরের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি ঔষধ। তবে অন্য সব ঔষধের মতো এটিও মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে তা শিশুর জন্য বিপদজনক হতে পারে। তাই প্যারাসিটামল সহ সব ধরনের ঔষধ সবসময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
  • বাংলাদেশে প্যারাসিটামলের পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে নাপা, এইস, ফাস্ট, এটিপি, প্যারাপাইরল, পাইরালজিন, রিসেট, রেনোভা, ট্যামেন, এক্সেল ও এক্সপা।

 

শিশুকে কোন বয়সে কোন ধরনের প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে

 

শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা (ডোজ) জানা সবচেয়ে বেশি জরুরি।ভুল ডোজে প্যারাসিটামল দেওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে,তাই ডাক্তারের বা প্যাকেটের নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সাধারণভাবে,শিশুদের বিভিন্ন বয়সের জন্য প্যারাসিটামলের ধরন এবং ডোজ সম্পর্কে নিচে কিছু তথ্য দেওয়া হলো:


১. প্যারাসিটামলের ধরণ ও বয়স:

                                                         

বয়সপ্যারাসিটামলের ধরণ
২ মাসের কম বয়সী শিশুডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ ক্ষেত্রে, ভিন্ন শক্তিমাত্রার পেডিয়াট্রিক ড্রপস (Paediatric Drops) ব্যবহার করা যেতে পারে।
২ মাস থেকে ৫/৬ বছর পর্যন্তসাধারণত সিরাপ বা সাসপেনশন (Syrup/Suspension) ব্যবহার করা হয়।
৬ বছর বা তার বেশিট্যাবলেট (Tablet) বা মেল্টিং ট্যাবলেট (জিভে গলে যায়) দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্যাবলেট গিলতে সমস্যা হলে সিরাপও দেওয়া যায়।
সব বয়সের জন্যজ্বর খুব বেশি হলে বা শিশু মুখে ওষুধ খেতে না পারলে সাপোজিটরি (Suppository) (পায়ুপথে ব্যবহারের জন্য) ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ডোজও শিশুর ওজন অনুযায়ী নির্ভর করে।

 

২. ডোজ (মাত্রা) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

 

  • ওজন ভিত্তিক ডোজ: শিশুদের প্যারাসিটামলের ডোজ তাদের বয়স নয়, বরং শরীরের ওজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।প্রতি কেজি ওজনের জন্য সাধারণত ১০-১৫ মিলিগ্রাম (mg) প্যারাসিটামল দেওয়া হয়।
  • ডোজের নিয়ম: এক ডোজ দেওয়ার পরে পরবর্তী ডোজ দেওয়ার আগে কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ বারের বেশি প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত নয়।
  • তরল ওষুধের পরিমাপ: সিরাপ বা ড্রপস দেওয়ার সময় সাধারণ চামচ ব্যবহার না করে ওষুধের সাথে দেওয়া সিরিঞ্জ বা মেপে দেওয়ার চামচ (measuring spoon) ব্যবহার করা উচিত।
  • সিরাপের শক্তি: মনে রাখবেন, বাজারে বিভিন্ন শক্তিমাত্রার সিরাপ পাওয়া যায় (যেমন: ১২০ মি.গ্রা./৫ মি.লি. বা ২৫০ মি.গ্রা./৫ মি.লি.)। তাই ডাক্তারের দেওয়া ডোজের সাথে আপনার কেনা ওষুধের শক্তিমাত্রা মিলিয়ে সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা জরুরি।
  • পেডিয়াট্রিক ড্রপস (শিশুদের ড্রপস): ড্রপসের শক্তিমাত্রা সিরাপের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, কিছু ড্রপসে ১ মিলি-তে ১০০ মি.গ্রা. প্যারাসিটামল থাকতে পারে।

 

শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্যারাসিটামলের ডোজ

 

শিশুদের জন্য প্রতি কেজিতে ১৫ মিলিগ্রাম (mg) প্যারাসিটামল দেওয়া হয়।এই ডোজ ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে, তবে ২৪ ঘন্টায় ৪ বারের বেশি নয়।


প্যারাসিটামল সিরাপ (সাধারণত ১২০ মি.গ্রা./৫ মি.লি.) এর কিছু উদাহরণমূলক ডোজ (বয়স অনুযায়ী):

 

 

 

                                                                  

বয়সআনুমানিক ডোজ (সিরাপের পরিমাণ)দিনে সর্বোচ্চ কতবার
২-৩ মাস*২.৫ মি.লি.২৪ ঘন্টায় ২ বার পর্যন্ত
৩-৫ মাস২.৫ মি.লি.২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত
৬-২৩ মাস৫ মি.লি.২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত
২-৩ বছর৭.৫ মি.লি.২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত
৪-৫ বছর১০ মি.লি.২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত

 

 

ওজন-ভিত্তিক ডোজই সবচেয়ে সঠিক: সম্ভব হলে শিশুর বয়স নয়, ওজনের ওপর ভিত্তি করে ডোজ নির্ধারণ করা উচিত। আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট আপনার শিশুর ওজনের ভিত্তিতে সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করে দিতে পারবেন।

 

  • ডোজের ব্যবধান: প্রতি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ ঘন্টা ব্যবধান রাখা আবশ্যক।
  • ২৪ ঘণ্টার সীমা: কোনো অবস্থাতেই ২৪ ঘন্টায় ৪ বারের বেশি প্যারাসিটামল দেওয়া যাবে না।
  • পণ্যের শক্তি: বিভিন্ন প্যারাসিটামল পণ্যের (যেমন সিরাপ, ড্রপ, সাপোজিটরি) শক্তি ভিন্ন হতে পারে (যেমন- ১২০ মি.গ্রা./৫ মি.লি. বা ২৫০ মি.গ্রা./৫ মি.লি.)। ঔষধের প্যাকেজে থাকা নির্দেশাবলী অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং অনুসরণ করুন।
  • ২ মাসের কম বয়সী শিশু: ২ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত নয়।
  • সাপোজিটরি: পায়ুপথে ব্যবহারের জন্য সাপোজিটরির ডোজও বয়স ও ওজনের উপর ভিত্তি করে ডাক্তার নির্ধারণ করেন।

 

অতিরিক্ত ডোজে প্যারাসিটামল সেবনের ফলাফল

 

যদি আপনি ভুলবশত শিশুকে প্যারাসিটামলের একটি মাত্র অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তী ডোজ দেওয়ার আগে অন্তত ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করুন।


জরুরি তথ্য

 

শিশু যদি কোনো কারণে প্যারাসিটামলের দুটি অতিরিক্ত ডোজ সেবন করে ফেলে তাহলে তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে অথবা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।অতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবনের ফলাফল মারাত্মক হতে পারে এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময়ে যেই প্যাকেট অথবা পাতা থেকে ঔষধ খাওয়া হয়েছে তাতে বাকি থাকা ঔষধগুলো সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। প্যাকেট অথবা প্যাকেটের ভেতরে থাকা নির্দেশিকাও সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত।


শিশুদের কীভাবে প্যারাসিটামল দিতে হবে?

প্যারাসিটামল দেওয়ার নিয়ম

 

  • সিরাপ: সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে, বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক ডোজ জানতে হবে। সাধারণত, ১০-১৫ মিগ্রা প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া হয়।
  • সাপোজিটরি: পায়ুপথে দেওয়ার ক্ষেত্রে, ১০-২০ মিগ্রা প্রতি কেজি ওজনের জন্য দেওয়া হয়।
  • সাধারণভাবে:

সাধারণত ১০২.২°F এর কম জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

জ্বর বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে পুষ্টি এবং তরল খাবার দিতে হবে।

সাধারণ সর্দি-জ্বরের ক্ষেত্রে, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে।

যদি জ্বর দুই দিনের বেশি থাকে বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

 

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

 

  • শিশুর বয়স ৩ মাসের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত নয়।
  • সঠিক ডোজ জানার জন্য এবং কোনো সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই নির্দেশিকা দেখে নিন।
  • শিশুকে সুস্থ রাখতে, সাধারণ সর্দি-জ্বর হলে প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া উচিত।
  • অতিরিক্ত জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

 

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

 

শিশুকে সঠিক ডোজে প্যারাসিটামল খাওয়ালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা খুবই বিরল।বিশেষ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত হলে অথবা অস্বাভাবিক কিছু খেয়াল করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন


বিরল কিছু ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল সেবনের ফলে মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে।

 

নিচের ৫টি লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দেওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান—

 

  • চামড়ায় চুলকানিসহ লাল লাল ফুসকুঁড়ি বা র‍্যাশ দেখা দিলে
  • চামড়া ফুলে উঠলে অথবা ফোস্কা পড়লে কিংবা শরীরের কিছু জায়গা থেকে চামড়া উঠে আসার মতো অবস্থা হলে
  • হাঁপানি রোগীদের মত শোঁ শোঁ শব্দ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হলে
  • বুক অথবা গলা আঁটসাঁট হয়ে বা আটকে আসছে এমন অনুভব করলে
  • কথা বলতে অথবা শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে সমস্যা হলে
  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা অথবা গলা ফুলে যেতে শুরু করলে

     

এখানে প্যারাসিটামলের সবগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা নেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকার জন্য ঔষধের সাথে থাকা নির্দেশিকা পড়ুন।


 

Thank you for reading!
0 items
BDT 0

Login