
Written by
Published at
November 29, 2025
শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল একটি বহুল ব্যবহৃত এবং সাধারণত নিরাপদ ওষুধ,যা জ্বর কমানো এবং ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়।এটি প্রায়ই মাথাব্যথা,পেট ব্যথা, কানের ব্যথা ও সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।এ ছাড়া জ্বর কমাতেও সচরাচর প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।প্যারাসিটামল খুবই নিরাপদ হলেও, সঠিক মাত্রা (ডোজ) এবং সেবনবিধি শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কম বা বেশি মাত্রায় দিলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে,বিশেষ করে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের ব্যবহার সংক্রান্ত মূল পাঁচটি তথ্য
শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা (ডোজ) জানা সবচেয়ে বেশি জরুরি।ভুল ডোজে প্যারাসিটামল দেওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে,তাই ডাক্তারের বা প্যাকেটের নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সাধারণভাবে,শিশুদের বিভিন্ন বয়সের জন্য প্যারাসিটামলের ধরন এবং ডোজ সম্পর্কে নিচে কিছু তথ্য দেওয়া হলো:
১. প্যারাসিটামলের ধরণ ও বয়স:
| বয়স | প্যারাসিটামলের ধরণ |
| ২ মাসের কম বয়সী শিশু | ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ ক্ষেত্রে, ভিন্ন শক্তিমাত্রার পেডিয়াট্রিক ড্রপস (Paediatric Drops) ব্যবহার করা যেতে পারে। |
| ২ মাস থেকে ৫/৬ বছর পর্যন্ত | সাধারণত সিরাপ বা সাসপেনশন (Syrup/Suspension) ব্যবহার করা হয়। |
| ৬ বছর বা তার বেশি | ট্যাবলেট (Tablet) বা মেল্টিং ট্যাবলেট (জিভে গলে যায়) দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্যাবলেট গিলতে সমস্যা হলে সিরাপও দেওয়া যায়। |
| সব বয়সের জন্য | জ্বর খুব বেশি হলে বা শিশু মুখে ওষুধ খেতে না পারলে সাপোজিটরি (Suppository) (পায়ুপথে ব্যবহারের জন্য) ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ডোজও শিশুর ওজন অনুযায়ী নির্ভর করে। |
২. ডোজ (মাত্রা) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
শিশুদের জন্য প্রতি কেজিতে ১৫ মিলিগ্রাম (mg) প্যারাসিটামল দেওয়া হয়।এই ডোজ ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে, তবে ২৪ ঘন্টায় ৪ বারের বেশি নয়।
প্যারাসিটামল সিরাপ (সাধারণত ১২০ মি.গ্রা./৫ মি.লি.) এর কিছু উদাহরণমূলক ডোজ (বয়স অনুযায়ী):
| বয়স | আনুমানিক ডোজ (সিরাপের পরিমাণ) | দিনে সর্বোচ্চ কতবার |
| ২-৩ মাস* | ২.৫ মি.লি. | ২৪ ঘন্টায় ২ বার পর্যন্ত |
| ৩-৫ মাস | ২.৫ মি.লি. | ২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত |
| ৬-২৩ মাস | ৫ মি.লি. | ২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত |
| ২-৩ বছর | ৭.৫ মি.লি. | ২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত |
| ৪-৫ বছর | ১০ মি.লি. | ২৪ ঘন্টায় ৪ বার পর্যন্ত |
ওজন-ভিত্তিক ডোজই সবচেয়ে সঠিক: সম্ভব হলে শিশুর বয়স নয়, ওজনের ওপর ভিত্তি করে ডোজ নির্ধারণ করা উচিত। আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট আপনার শিশুর ওজনের ভিত্তিতে সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করে দিতে পারবেন।
যদি আপনি ভুলবশত শিশুকে প্যারাসিটামলের একটি মাত্র অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তী ডোজ দেওয়ার আগে অন্তত ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করুন।
জরুরি তথ্য
শিশু যদি কোনো কারণে প্যারাসিটামলের দুটি অতিরিক্ত ডোজ সেবন করে ফেলে তাহলে তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে অথবা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।অতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবনের ফলাফল মারাত্মক হতে পারে এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময়ে যেই প্যাকেট অথবা পাতা থেকে ঔষধ খাওয়া হয়েছে তাতে বাকি থাকা ঔষধগুলো সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। প্যাকেট অথবা প্যাকেটের ভেতরে থাকা নির্দেশিকাও সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত।
শিশুদের কীভাবে প্যারাসিটামল দিতে হবে?
প্যারাসিটামল দেওয়ার নিয়ম
সাধারণত ১০২.২°F এর কম জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
জ্বর বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে পুষ্টি এবং তরল খাবার দিতে হবে।
সাধারণ সর্দি-জ্বরের ক্ষেত্রে, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে।
যদি জ্বর দুই দিনের বেশি থাকে বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
শিশুকে সঠিক ডোজে প্যারাসিটামল খাওয়ালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা খুবই বিরল।বিশেষ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত হলে অথবা অস্বাভাবিক কিছু খেয়াল করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন
বিরল কিছু ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল সেবনের ফলে মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে।
নিচের ৫টি লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দেওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান—
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা অথবা গলা ফুলে যেতে শুরু করলে
এখানে প্যারাসিটামলের সবগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা নেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকার জন্য ঔষধের সাথে থাকা নির্দেশিকা পড়ুন।